
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। তবে তার আগেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। এই প্রচারণায় একটি বিষয় চোখে পড়ছে সবচেয়ে বেশি—ধর্মীয় পোশাকের ব্যবহার।

ছবি সংগৃহীত
মসজিদ, শোকসভা কিংবা সামাজিক জমায়েতে দেখা যাচ্ছে—
পুরুষ প্রার্থীদের মাথায় টুপি, গায়ে পাঞ্জাবি, আর নারী প্রার্থীদের মাথায় ঘোমটা। বিএনপি, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ এমনকি অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী—প্রায় সবাইকেই একই ধরনের পোশাকে জনসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে।
হঠাৎ ধর্মীয় পোশাক কেন?
নির্বাচনী রাজনীতিতে ধর্মীয় পোশাক নতুন কিছু নয়। তবে এবার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে ঢাকার এমপি পদপ্রার্থী ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি।
সম্প্রতি তার নির্বাচনী জনসংযোগের সময় এক ব্যক্তি সরাসরি প্রশ্ন করেন—
এখন হঠাৎ টুপি-পাঞ্জাবি কেন?”
এই প্রশ্নোত্তরের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ব্যাখ্যা
এ বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন,
নির্বাচন আসলে এই বিষয়গুলো দেখা যায়। সমাজে যারা নেতৃত্ব দেন—মসজিদ কমিটি, বাজার কমিটির সভাপতিতাদের বয়স সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছরের বেশি। তারা এই বয়সে ধর্মচর্চায় বেশি যুক্ত হন এবং টুপি-পাঞ্জাবি পরেন।
তিনি আরও বলেন,
যেহেতু এটি একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং ভোটারদের বড় অংশ মুসলমান—তাই জনসংযোগে একটি সাংস্কৃতিক বাস্তবতা কাজ করে।”
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে অভিযোগ
ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় পোশাক পরে রাজনীতি করলেও, এবারের নির্বাচনে ধর্মকে ভোটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।
এই প্রসঙ্গে গত ডিসেম্বরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছিলেন,
ভোটের রাজনীতিতে, জাতীয় রাজনীতিতে ধর্মের নামে ভোট চাওয়া হচ্ছে।”
তার এই বক্তব্য জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়ার আগেই দেওয়া হয়, যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়।
ভোটের সমীকরণে পোশাক কতটা প্রভাব ফেলে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় পোশাক সরাসরি ভোট নিশ্চিত না করলেও ভোটারদের সঙ্গে মানসিক সংযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও ধর্মীয় পরিবেশে প্রার্থীর পোশাক ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পারে।
তবে সমালোচকদের দাবি—
নির্বাচনের সময় হঠাৎ ধর্মীয় পরিচয় তুলে ধরা দ্বিমুখী রাজনীতির ইঙ্গিত দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ভোট কি পোশাকে আসে?
সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—
টুপি, পাঞ্জাবি বা ঘোমটা পরলেই কি ভোট বাড়ে?
নাকি এটি কেবল নির্বাচনী কৌশলের অংশ?
উত্তরটা হয়তো ভোটারদের হাতেই।