
প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:১২ PM
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মরিয়ম আক্তার মুন্নি নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে নির্যাতন করে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করা হলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ঝুলে থাকার কারণে শ্বাসরোধ এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যাজনিত বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসক।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বড়লেখা থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ২১ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে বড়লেখা থানার মুরিরগুল গ্রামে মুন্নির আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে তাঁর বসতবাড়ির টয়লেটের টিনের চালার কাঠের তীরের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। পরে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে মুন্নির বাবা হাজী মকবুল আলী তাঁর মেয়ের মানসিক চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ করেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করে পুলিশ।

পরে তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ ধারায় বড়লেখা থানায় অপমৃত্যু মামলা (ইউডি) নম্বর ৩১, তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৬, করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়।
পরে মুন্নির বাবা-মা ও স্বজনেরা বড়লেখা উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়ির ননদ, শাশুড়ি ও ভাসুর তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন। তাঁদের দাবি, হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে করা এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর বড়লেখা শহীদ মিনারে মানববন্ধনের ঘোষণাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি মনিরুজ্জামান জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে চিকিৎসক মতামত দিয়েছেন—ঝুলে থাকার কারণে শ্বাসরোধে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই ঝুলে থাকা জীবদ্দশায় ঘটেছে এবং মৃত্যুর ধরন আত্মহত্যাজনিত।
অর্থাৎ, চিকিৎসকের মতামত অনুযায়ী মুন্নির মৃত্যু ঝুলে থাকার কারণে শ্বাসরোধে হয়েছে এবং এটি জীবদ্দশায় সংঘটিত আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসক আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ দেওয়া হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়, কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, অসত্য বা উসকানিমূলক তথ্য প্রচার না করতে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের তথ্য প্রচারের ফলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক