বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮ মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সিলেটে কিশোর ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসের রহমান

সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সিলেটে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে ফয়জুল হক নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান (রহ.) থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ফয়জুল হক সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মাদ্রাসার হিফজ শাখার ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশ ও শিশুদের পরিবারের অভিযোগের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুই শিশু সম্প্রতি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে চলে আসে এবং এরপর আর মাদ্রাসায় যেতে আপত্তি জানায়। অভিভাবকরা তাদের মাদ্রাসায় পাঠানোর চেষ্টা করেও সফল হননি।

একপর্যায়ে শিশু দুটি তাদের অভিভাবকদের কাছে অভিযোগ করে, তাদের প্রতি রাতে হুজুরের ঘরে যেতে হতো। সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর করা হতো এবং ঘরে গেলে তাদের সঙ্গে ‘খারাপ কাজ’ করা হতো বলে তারা জানায়।

শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করার খবর পেয়ে ফয়জুল হক মাদ্রাসা ছেড়ে জৈন্তাপুরে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে বুধবার তাকে জৈন্তাপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, ফয়জুল হকের বাড়িও জৈন্তাপুর এলাকায়।

শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আহমদ জানান, দুই শিশুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুল হক অভিযোগের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিশুদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ না করে অন্য একটি বিয়ে করেন না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘মহিলাদের আমার ভাল্লাগে না’ বলেছেন বলে জানান ওসি।

তবে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে অভিযোগগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, ফয়জুল হককে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের শিকার দুই শিশুর মেডিকেল পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক