
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৪-এর গণ–অভ্যুত্থানের পর খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় দীর্ঘদিন পর পরিত্যক্ত ছিল। দীর্ঘ দুই বছরের মতো কার্যালয়গুলোতে কেউ প্রবেশ করতে পারছিল না। আজ রোববার বিকেলে প্রথমবারের মতো তৃণমূলের একদল নেতা–কর্মী তাদের দলের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে গিয়ে তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় সক্রিয় করার প্রাথমিক ইঙ্গিত দেন।
কার্যালয়ে উপস্থিত নেতা–কর্মীদের মধ্যে একজন খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জানান,
আমরা কোনো আলাদা আয়োজন বা নির্দেশনা না পেয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কার্যালয়ে গিয়েছি।

ছবি সংগৃহীত
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একই ধরনের পদক্ষেপের খবর পেয়ে আমরা খুলনাতেও আমাদের উদ্যোগ নিয়েছি। কার্যালয়টি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ ছিল, আমরা সেটি ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছি। তারপর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিচে নেমে নতুন কার্যালয়ে একটি তালা লাগিয়ে এসেছি যাতে পরে আমরা সহজে প্রবেশ করতে পারি। কার্যালয়ে আমাদের কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, এই পদক্ষেপ ছিল তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের উদ্যোগ, দলের কোনো কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছিল না। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২৫–৩০ জন নেতা–কর্মী, যারা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী।
ভিডিওতে দেখা গেছে, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি টি এম আরিফ এবং সদর থানা নেতা মো. রুবেলও কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওতে উপস্থিত নেতা–কর্মীরা উৎফুল্ল ও উৎসাহিত ছিলেন।
খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “এতদিন একটি অবৈধ সরকার ছিল এবং আমাদের ওপর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত ছিল। এখন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে।
আমরা মনে করি, কার্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমাদের নেতা–কর্মীরা আজ সেই সুযোগ গ্রহণ করেছেন। আগামী যেকোনো কর্মসূচির জন্য আমরা প্রস্তুত, শুধু ডাক বা নেতৃত্বের নির্দেশের অপেক্ষা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছিল। এর এক দিন আগে,
৪ আগস্ট, মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম দেখা যায়নি।
আজকের এই পদক্ষেপ স্থানীয় নেতৃত্ব এবং তৃণমূল কর্মীদের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিকভাবে কার্যালয় পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে।