
প্রকাশিত : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকায় একটি কিশোরীকে (১৫/১৬) শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে কোমরে শিকল বেঁধে কিশোরীকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে ওই এলাকার একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরির চেষ্টা করার অভিযোগে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন তাকে আটক করেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে তাকে সড়কে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কিশোরীকে কাঁদতে দেখা যায়। ভিডিওতে ওই যুবকের মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরির চেষ্টা করেন ওই কিশোরী। এ সময় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কয়েকজন তাকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে শিকল পরিয়ে সড়কে হাঁটানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে কিশোরীকে কারা মারধর করেছেন এবং কারা কোমরে শিকল বেঁধে সড়কে টেনে নিয়ে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরে স্থানীয়রা কিশোরীকে শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে তাকে আটককারীদের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন মঙ্গলবার রাতে জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসে। তার বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ বছর। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, সে একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরি করেছে। তবে এ বিষয়ে কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি এবং কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসার পর স্থানীয়রা আর কোনো সহযোগিতাও করেননি।
ওসি জানান, পরে কিশোরীকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ আইন, ২০০৯ (SMP Act)-এর ৮৯ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে ঘোরানোর বিষয়টি পুলিশের জানা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। কেউ এমন কাজ করে থাকলে তারা অন্যায় করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুদীপ্ত অর্জুন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী কোনো সাধারণ নাগরিক আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তিকে আটক করতে পারেন। তবে আটক করার পর তাকে অনতিবিলম্বে পুলিশের কাছে অথবা নিকটবর্তী থানায় হস্তান্তর করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কাউকে আটক করে নিজেরা শাস্তি দেওয়া, কোমরে শিকল বেঁধে জনসমক্ষে হাঁটানো কিংবা কোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা আইনসম্মত নয়। এ ধরনের আচরণ আইন পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে কিশোরীর বিরুদ্ধে ওঠা চুরির অভিযোগের সত্যতা এবং তাকে শিকল বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক