বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮ মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সিলেটে কিশোর ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসের রহমান

সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক 

সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার একটি বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া চিকিৎসক পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্ত (৩১)-এর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহ মৌলভীবাজারের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রান্ত মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সাবিয়া গ্রামের পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তীর ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ছিলেন। তার স্ত্রীও একজন চিকিৎসক এবং সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার স্বপ্নিল-২০ নম্বর বাসা থেকে পুলিশ প্রান্তের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়।

এদিকে নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই তার এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে পরিবারের স্বজনদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত নয়।

প্রান্তের একাধিক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশ্ন তুলেছেন, শারীরিকভাবে সুঠামদেহী একজন তরুণ চিকিৎসক কীভাবে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন। নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই কেন এমন ঘটনা ঘটল, সেটিও তাদের কাছে রহস্যজনক বলে মনে করছেন তারা।

স্বজনরা আরও জানান, প্রান্ত হাসিখুশি ও প্রাণচঞ্চল ছিলেন। মৌলভীবাজারে তাদের পরিবারের সামাজিক পরিচিতিও রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তাদের বাড়িটি ‘ভটের বাড়ি’ বা ‘ব্রাহ্মণ বাড়ি’ নামে পরিচিত।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রান্তরা এক ভাই ও এক বোন। কয়েক বছর আগে তাদের মা মারা যান। তার ছোট বোনের এখনও বিয়ে হয়নি।

এদিকে মৃত্যুর পর কয়েকটি গণমাধ্যমে কোতোয়ালি থানার ওসির বরাত দিয়ে প্রান্তের বোনের আগেও আত্মহত্যার চেষ্টা করার তথ্য প্রকাশিত হয়। তবে পরিবারের স্বজনরা বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভুল তথ্য বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, প্রান্তের পরিবারের কেউ এর আগে আত্মহত্যা করেননি বা আত্মহত্যার চেষ্টাও করেননি।

অন্যদিকে স্বজনদের আরেকটি সূত্র দাবি করেছে, প্রান্তের সঙ্গে তার স্ত্রীর মনোমালিন্য চলছিল। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রান্তের স্ত্রী ঢাকার বাসিন্দা এবং প্রায় দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বর্তমানে তিনি সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, সোমবার দুপুরে প্রান্তকে মোবাইল ফোনে না পেয়ে বিষয়টি মৌলভীবাজারে থাকা স্বজনদের জানান তার স্ত্রী। পরে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম জানান, ডা. পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্তের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি।

জানালার গ্রিলে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে স্বজনদের প্রশ্নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জানা যাবে।

এর আগে সোমবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না এবং পুলিশ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

আত্মহত্যার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি জানান, এ মুহূর্তে কোনো কিছু নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আত্মহত্যার বিষয়টিও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা; তদন্ত শেষে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের পর চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক