রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮ মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সিলেটে কিশোর ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসের রহমান দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা নিয়ে মালয়েশিয়ার আপত্তি শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশের অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ আটক ৪ বড়লেখা সীমান্তে ১ হাজার ৭৭০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন আটক মৌলভীবাজার চলন্ত টমটম থেকে লাফ, কলেজছাত্রীর ২ দাঁত ভাঙল

সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব,

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

আজ ৫ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাজনীতির প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন অন্যতম নেতা, ভাষাসৈনিক এবং সিলেটের উন্নয়নের অন্যতম রূপকার এম. সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদাৎবার্ষিকী।

২০০৯ সালের এই দিনে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান। তাঁর মৃত্যুর ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও সিলেটবাসীর হৃদয়ে তাঁর স্মৃতি আজও অমলিন। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও তাঁর কর্ম ও অবদানের মূল্যায়ন বরং আরও গভীর হয়েছে।

এম. সাইফুর রহমান ছিলেন দূরদর্শী, স্পষ্টভাষী, সাহসী ও কর্মনিষ্ঠ একজন রাজনীতিক। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সংস্কার ও আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নিতে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশের অন্যতম দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালনকারী অর্থমন্ত্রী এবং মোট ১২টি জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকারী অর্থমন্ত্রী হিসেবে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল দৃঢ় ও সাহসী। মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট প্রবর্তন, বাণিজ্য উদারীকরণ, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও বেসরকারিকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপের সঙ্গে তাঁর নাম গভীরভাবে যুক্ত। দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে তিনি অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন।

তবে সিলেটের মানুষের কাছে এম. সাইফুর রহমানের পরিচয় শুধু একজন অর্থমন্ত্রী হিসেবে নয়। তিনি ছিলেন সিলেটের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার একজন অকুতোভয় স্বপ্নদ্রষ্টা। শিক্ষা, যোগাযোগ, অবকাঠামো, ক্রীড়া ও সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগের কথা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। সিলেটকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার যে প্রত্যয় তাঁর মধ্যে ছিল, সেটিই তাঁকে সিলেটবাসীর কাছে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।

২০০১ সালে তিনি দেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে তাঁর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে কাজের সেই সময়কে কর্মজীবনের পাশাপাশি জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে স্মরণ করা হয়। একজন জাতীয় নেতার কাছাকাছি থেকে তাঁর কর্মপদ্ধতি, চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দেখার সুযোগ ছিল সেই সময়ে।

তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতায় তাঁর মধ্যে দায়িত্বের প্রতি গভীর নিষ্ঠা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তা এবং নিজের বিশ্বাসের ওপর অটল থাকার মানসিকতা দেখা গেছে। কাজের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন কঠোর ও আপসহীন; অন্যদিকে মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিকতাও ছিল গভীর। বিশেষ করে সিলেটের মানুষের কথা উঠলে তাঁর আগ্রহ ও দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে যেত।

সিলেটের উন্নয়ন তাঁর কাছে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয় ছিল না; এটি ছিল তাঁর চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিলেটের সমস্যা, সম্ভাবনা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও অবকাঠামো নিয়ে তাঁর চিন্তা ছিল বাস্তবমুখী। সিলেটকে পিছিয়ে থাকা কোনো অঞ্চল হিসেবে দেখতে চাননি তিনি; বরং সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন।

তাঁর কর্মজীবন থেকে পাওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ছিল দায়িত্ববোধ। একটি দায়িত্ব গ্রহণ করা মানে শুধু সেই দায়িত্বের আনুষ্ঠানিকতা পালন নয়—এর সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশা ও দায়বদ্ধতাকেও ধারণ করা। তাঁর কর্মজীবনের দিকে তাকালে সেই দর্শনের প্রতিফলন স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়।

এম. সাইফুর রহমান রাজনীতিকে শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে রাজনীতি ছিল মানুষের কল্যাণ এবং দেশের উন্নয়নের একটি কার্যকর মাধ্যম। অর্থনৈতিক সংস্কারের মতো কঠিন বিষয়েও তাঁর দৃঢ় অবস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা সেই মানসিকতারই প্রকাশ।

তাঁর মৃত্যুর ১৭ বছর পরও সিলেটের উন্নয়নের ইতিহাসে তাঁর নাম উচ্চারিত হয়। নগরসহ সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ, শিক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামো এবং তাঁর সময়ের নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। একজন মানুষ চলে গেলেও তাঁর কর্মের যে ছাপ মানুষের জীবন ও একটি অঞ্চলের ইতিহাসে থেকে যায়, সেটিই তাঁকে দীর্ঘদিন মানুষের মনে বাঁচিয়ে রাখে।

এম. সাইফুর রহমানকে স্মরণ করতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিরাও আবেগাপ্লুত হন। তাঁদের কাছে তিনি শুধু একজন জাতীয় নেতা ছিলেন না; বরং কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একজন ব্যক্তিত্ব। তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ, তাঁর কাছ থেকে শেখার সুযোগ এবং তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কাছাকাছি থাকার অভিজ্ঞতা তাঁদের জীবনের মূল্যবান অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

সময়ের সঙ্গে মানুষ চলে যায়, কিন্তু কিছু মানুষের উপস্থিতি তাঁদের মৃত্যুর পরও অনুভব করা যায়। এম. সাইফুর রহমান তেমনই একজন। তাঁর কণ্ঠস্বর আজ আর শোনা যায় না, তাঁর সঙ্গে কর্মব্যস্ত সেই দিনগুলোও অতীত; কিন্তু তাঁর কাজ, চিন্তা ও রেখে যাওয়া স্মৃতি আজও মানুষের মনে জীবন্ত।

এম. সাইফুর রহমানকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন প্রয়াত নেতাকে স্মরণ করা নয়। তাঁর কর্ম, সাহসী সিদ্ধান্ত, দূরদর্শিতা এবং সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে তাঁর স্বপ্নকে স্মরণ করাও এর অংশ।

তাঁর প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা শুধু স্মরণসভা কিংবা আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, সততা, সাহস ও দূরদর্শিতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হতে পারে তাঁর প্রতি সবচেয়ে বড় সম্মান।

১৭তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করা হচ্ছে প্রিয় নেতা এম. সাইফুর রহমানকে।

স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব—এম. সাইফুর রহমান।

মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।

আমিন।

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক