
প্রকাশিত: ২০২৬-০৬-০২ | সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
সিলেটে প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদ পেতে এক যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা এবং মারধরের অভিযোগে দুই নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহৃত যুবক জিল্লুর রহমানকে (২৭) উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি নগরীর এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় ঘটেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিল্লুর রহমানের সঙ্গে কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় মীম আক্তার নাহিদা (২২) নামের এক তরুণীর। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে নাহিদা তাকে দেখা করার জন্য নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোড এলাকার বড়বাজার গলির মুখে ডেকে নেন।
গত ১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে মীম আক্তার নাহিদাসহ কয়েকজন মিলে জিল্লুর রহমানকে জোরপূর্বক আটক করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা তাকে মারধর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে কুনিপাড়া এলাকার একটি বসতঘরে নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ওই ঘরে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন শিল্পি বেগম ওরফে শিল্পি দেওয়ানসহ অন্য সহযোগীরা। সেখানে অপহৃত যুবককে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা প্রায় ৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
অপহৃত যুবকের চিৎকারে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
পরে ১ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুনিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত জিল্লুর রহমানকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মীম আক্তার নাহিদা (২২), মিল্লাত (২০), শিল্পি বেগম ওরফে শিল্পি দেওয়ান (৪০), এমরান খান (২৪) এবং স্বপন আহমেদ (২৩)।
এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় অপহরণ, অবৈধ আটক, মারধর, চাঁদাবাজি, চুরি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সন্দেহজনক কোনো পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে হবে।