মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

সিলেটে এক বাড়ি থেকে নারী-শিশুসহ ১৪ জন আটক

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ, আটক মানবপাচার চক্রের ‘মূল হোতা’

প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে নারী ও শিশুসহ ১৪ জনকে আটক করেছে । এ ঘটনায় মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য ও কথিত মূল হোতা মো. হানিফ মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (১৭ মে) দুপুরে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের উজানীনগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়দের সন্দেহে ফাঁস হয় ঘটনা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজানীনগর গ্রামের আব্দুল করিমের একটি তিনতলা ভবনে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে এলাকাবাসী বাড়িটি ঘিরে ফেললে মানবপাচারের বিষয়টি সামনে আসে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে সীমান্তের অবৈধ পথ ব্যবহার করে ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের সহায়তায় তাদের গোপনে ভবনটিতে রাখা হয়।

শাড়ি পরে পালানোর চেষ্টা, জনতার হাতে ধরা

ঘটনার সময় অভিযুক্ত হানিফ মিয়া শাড়ি পরে ভবন থেকে পালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে তাকে আটক করে এবং খবর দেয় –কে।

পরে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবন থেকে ৯ জন নারী, ৩ জন পুরুষ ও ১টি শিশুসহ মোট ১৪ জনকে উদ্ধার করে।

মানবপাচার চক্রের সক্রিয় নেটওয়ার্কের অভিযোগ

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি মানবপাচার চক্র ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধ যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা উদ্ধার

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুনামগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, যশোর, ঢাকা ও পিরোজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা রয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

পুলিশ জানিয়েছে, পুরো চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের বক্তব্য

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তিনি আরও বলেন,

সীমান্ত এলাকায় অপরাধ ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ

ঘটনাটি প্রকাশের পর সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা প্রয়োজন।

আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই ও পুরো মানবপাচার চক্র শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।