শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

সিলেটে থামছে না ‘মধুফাঁদ’

Reporter Name

 

প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০২৬ | সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সিলেটে ‘মধুফাঁদ’ বা ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং বারবার সতর্কতা সত্ত্বেও প্রতারকদের ফাঁদে পা দিচ্ছেন অনেক মানুষ। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ এমনই এক ঘটনায় অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণ দাবির শিকার হয়েছেন জিল্লুর রহমান (২৭) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় দুই নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনে মীম আক্তার নাহিদা নামে এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় জিল্লুর রহমানের। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলতে থাকে। একপর্যায়ে গত ১ জুন রাতে দেখা করার কথা বলে তাকে সিলেট মহানগরের এয়ারপোর্ট থানার ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোড এলাকার বড়বাজার গলির মুখে ডেকে নেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে পৌঁছানোর পর পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন ব্যক্তি জিল্লুর রহমানকে জোরপূর্বক আটক করে। তাকে মারধর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নগরের কুনিপাড়া এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে একটি বাসায় আটকে রেখে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এ সময় তার কাছে থাকা নগদ ৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপহরণকারীরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আরও অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালায়।

একপর্যায়ে জিল্লুর রহমানের চিৎকারে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তদের আটক করে।

পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আগেও সামনে এসেছে একই ধরনের চক্র

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে দুই যুবককে ফাঁদে ফেলে জিম্মি করার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মারধর, ভিডিও ধারণ এবং অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চক্র সাধারণত নারীদের ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে নির্জন স্থানে ডেকে এনে জিম্মি করা, অর্থ আদায়, ছিনতাই বা ব্ল্যাকমেইল করার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়।

পুলিশের সতর্কবার্তা

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, নগরে এ ধরনের একাধিক চক্র সক্রিয় থাকার তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। এসব চক্রকে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক সংকোচ বা সম্মানহানির ভয়ে অভিযোগ করতে চান না। ফলে অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। তবে যে কেউ এমন পরিস্থিতির শিকার হলে দ্রুত পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

সচেতনতার বিকল্প নেই

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, অপরিচিত কিংবা স্বল্প পরিচিত কারও ডাকে নির্জন স্থানে দেখা করতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। মোবাইল ফোন বা অনলাইনে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই ছাড়া সাক্ষাতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত অভিযোগ প্রদান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করলে এ ধরনের প্রতারণা ও অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।