
তথ্য প্রত্যাহারের দাবি স্টিভেন পাউলস কেসির
প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২৬ | সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR) প্রকাশিত ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টে উল্লেখিত মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনি পরামর্শক স্টিভেন পাউলস কেসি রিপোর্টে উল্লেখিত “১,৪০০ নিহত” তথ্যকে “ভুল ও বিভ্রান্তিকর” দাবি করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ২৮ মে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই দাবি তোলা হয়। চিঠিতে বলা হয়, জাতিসংঘের রিপোর্টে উল্লেখিত মৃত্যুর সংখ্যা বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা অতিরঞ্জিত।
স্টিভেন পাউলস কেসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত অফিশিয়াল গেজেট অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৮৩৪ জন। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তথ্যসূত্রেও নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬৫০ বলে উল্লেখ রয়েছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘের রিপোর্টে ১,৪০০ জন নিহতের তথ্যকে “প্রায় দ্বিগুণ” বলে দাবি করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, তদন্ত প্রক্রিয়াটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে এবং তাদের প্রভাবের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়েছে। তদন্তের সময়সীমা ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখায় পরবর্তী সময়ের সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো প্রতিবেদনের বাইরে থেকে গেছে বলেও দাবি করা হয়।
স্টিভেন পাউলস কেসি চিঠিতে উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা সরকার পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রক্রিয়া পরিচালিত হলে তা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
চিঠির শেষাংশে জাতিসংঘের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে “১,৪০০ নিহত” তথ্য সংশোধন বা প্রত্যাহার করে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন এবং ওই সময়কার সহিংসতা নিয়ে দেশে-বিদেশে এখনও ব্যাপক আলোচনা চলছে। নিহতের প্রকৃত সংখ্যা, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক দায়-দায়িত্ব নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।