
আটক, ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু তাহসিন
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
সিলেটের খাদিমপাড়া এলাকায় এক মাদ্রাসাছাত্রের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক কথিত হুজুরের বিরুদ্ধে। “জিনের ভয়” দেখিয়ে শিশুটিকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত রাখা এবং শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ফায়সাল আহমেদ কামরানকে আটক করেছে ।

নির্যাতনের শিকার শিশু তাহসিন বর্তমানে –এ চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রবাসে থাকা বাবার অজান্তে শিশুটির ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
শিশুটির স্বজনরা জানান, বিভিন্ন সময় তাকে “জিনে ধরেছে” বলে ভয় দেখানো হতো। এর মাধ্যমে শিশুটিকে মানসিকভাবে দুর্বল করে নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের সময় শিশুটির শরীরের আঘাতের স্থানে মরিচ লাগিয়ে দেওয়া হতো, যা তার কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিত।
বর্তমানে তাহসিন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং মানসিক ট্রমাও গুরুতর।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুটির পুরোপুরি সুস্থ হতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও মানসিক কাউন্সেলিং প্রয়োজন হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ফায়সাল আহমেদ কামরান নিজেকে ধর্মীয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিলেও অতীতে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন এলাকায় “জিনের বাদশা” পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া অতীতে বিভিন্ন ঘটনায় গণধোলাইয়ের শিকার হওয়ার কথাও স্থানীয়দের মুখে শোনা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ধর্মের অপব্যাখ্যা ব্যবহার করে শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে যেন কেউ এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
শিশু তাহসিনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে।