শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্য গ্রে ফ তা র, লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উ দ্ধা র,

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

প্রকাশিত, ২৩,৫,২০২৬ সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

অস্ত্রের মুখে নারীকে জিম্মি করে ছিনতাই; প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযানে সফল পুলিশ,

মৌলভীবাজার শহরে নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত স্বর্ণের চেইনও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন দীর্ঘদিন বিভিন্ন ডাকাতি, অস্ত্র ও দস্যুতা মামলায় কারাভোগ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— জাহাঙ্গীর আলম (৪২) ওরফে “মরা জাহাঙ্গীর”, তিনি সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পূর্ব ছিরামপুর এলাকার বাসিন্দা। অপরজন আকমল হোসেন (৩৯), দক্ষিণ সুরমা উপজেলার চান্দাই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মে ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩৮ মিনিটে এক নারী তার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশাযোগে বাসায় ফিরছিলেন। পথে মৌলভীবাজার পৌরসভার সৈয়ারপুর এলাকার লক্ষীবালা স্কুল রোডের কালী মন্দির সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে একটি লাল রঙের মোটরসাইকেলে করে আসা তিন ছিনতাইকারী তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে।

এ সময় দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই নারীর গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় তারা। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ঘটনার পর ছিনতাইকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

ঘটনার খবর পেয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে টানা তিন দিন সিলেট জেলা ও মহানগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। গত ২১ মে সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ থানার কুশিঘাট এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আম্বরখানা বড়বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকমল হোসেনকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারের পর তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শিববাড়ী এলাকার একটি স্বর্ণের দোকান থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করে সিলেট মহানগর এলাকা থেকে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে এসে নারীদের টার্গেট করত। নির্জন এলাকায় সুযোগ বুঝে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেত তারা।

পুলিশের দাবি, মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল, বড়লেখা ও কুলাউড়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই চক্রের সক্রিয়তা ছিল। এছাড়া গত বছরের ১০ জুন মৌলভীবাজার শহরের বেরীরপাড় এলাকায় সংঘটিত একটি অনুরূপ ছিনতাই মামলার সঙ্গেও একই চক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর আলম ওরফে “মরা জাহাঙ্গীর” এর বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, অস্ত্র, দ্রুত বিচার ও দস্যুতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি পূর্বে ১৫ বছরের বেশি সময় কারাভোগ করেছেন।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়েরের তত্ত্বাবধানে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই রিপটন পুরকায়স্থ, এসআই হীরণ কুমার বিশ্বাস, এসআই জয়ন্ত সরকার, এএসআই রানা মিয়া, এএসআই সাইদুর রহমান এবং কনস্টেবল পিন্টু চন্দ্র শীলসহ একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইকারী চক্রের আরও সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।