
প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৬ |সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইজন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পৃথক দুই ঘটনায় একজনের পা বাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ এবং অন্যজনের হাত বাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বশেষ ঘটনায় সোমবার (১ জুন) সকালে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বারইগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত কবরস্থান এলাকা থেকে শামীম আহমদ ধনু (৪৭) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শামীম একই ইউনিয়নের বারইগ্রাম এলাকার শুক্কুর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শামীম তার চালিত সিএনজি গ্যারেজে রেখে বাড়ি ফিরে যান। পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর তিনি বাইরে বের হন। এরপর সকালে স্থানীয়রা কবরস্থান এলাকায় তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মরদেহের দুই পা দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিল।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিয়ানীবাজার থানার উপ-পরিদর্শক মহি উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা—এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
নিহত শামীমের পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তার কারও সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ ছিল না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং দুই ছেলে ও তিন কন্যার জনক ছিলেন।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একই উপজেলার আরও একটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। রোববার বিকেলে পৌরসভার খাসাড়িপাড়া গ্রামের আব্দুল মুক্তাদিরের ছেলে সাদিকুল ইসলাম রূপক নামের আরেক ব্যক্তির হাত বাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরপর দুইটি ঘটনায় একই ধরনের রহস্যজনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, এটি কি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পেছনে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা রয়েছে—তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠছে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, দুই ঘটনারই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। পাশাপাশি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পুরো বিয়ানীবাজার এলাকায় চরম চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।