
এসএমএস পরিবহনের বিরুদ্ধে একতরফা সিদ্ধান্ত ও রুট বন্ধের অভিযোগ, চরম উত্তেজনা পরিবহন খাতে
প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬ | সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
হবিগঞ্জ জেলার পরিবহন খাতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মৌলভীবাজার জেলার এসএমএস পরিবহনের মালিক-শ্রমিকদের বিরুদ্ধে একতরফা সিদ্ধান্ত, প্রভাব খাটানো এবং ‘হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন এক্সপ্রেস সার্ভিস’ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে আগামী ৩ জুন ভোর ৬টা থেকে হবিগঞ্জ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা মটর মালিক গ্রুপ।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে চলাচলকারী বিরতিহীন এক্সপ্রেস সার্ভিসকে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, মৌলভীবাজার জেলার এসএমএস পরিবহনের মালিক-শ্রমিকদের একাংশ নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে ওই রুটে চলাচলকারী পরিবহনগুলোকে হয়রানি করছে এবং কার্যত সার্ভিসটি বন্ধ করে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করেছে।
ধর্মঘটের ঘোষণা
হবিগঞ্জ জেলা মটর মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, বিষয়টির সমাধানে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩ জুন ভোর ৬টা থেকে হবিগঞ্জ জেলার সব ধরনের যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে বলেও জানানো হয়েছে।
পরিবহন খাতে উদ্বেগ
ধর্মঘটের ঘোষণার পর হবিগঞ্জের সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঈদুল আজহা সামনে থাকায় এ সময় জেলার বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবহন ধর্মঘট কার্যকর হলে যাত্রীসাধারণকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীরাও বলছেন, জেলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেলে বাজার ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে কোরবানির পশু, খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহনে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সমাধানের দাবি
হবিগঞ্জ জেলা মটর মালিক গ্রুপের নেতারা দ্রুত বিষয়টির সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দাবি করেছেন, পরিবহন খাতে কোনো ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত বা প্রভাব বিস্তার গ্রহণযোগ্য নয় এবং সকল জেলার পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশাসনের ভূমিকার প্রত্যাশা
পরিবহন সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ঈদের আগে এমন পরিস্থিতি নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে যাত্রীসাধারণের দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে ধর্মঘটের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলোতে পরিবহন খাতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়ন ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন যাত্রী, ব্যবসায়ী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবাই।