
প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২৬
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে হিন্দু ধর্মীয় কীর্তন অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চারজনের মধ্যে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুইজন। শনিবার (১ আগস্ট) দিনব্যাপী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়দের যৌথ অভিযানে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে জগন্নাথপুর পৌরসভার পশ্চিম ভবানীপুর এলাকার মইয়ার হাওরের বালুচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে জগন্নাথপুর পৌরসভার পূর্ব ভবানীপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা দুটি নৌকায় করে পার্শ্ববর্তী ভরাউট গ্রামে একটি হিন্দু ধর্মীয় কীর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে একটি নৌকা হাওরের বালুচর এলাকায় ডুবে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নৌকাটিতে মোট ৯ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও চারজন নিখোঁজ হন।
নিখোঁজরা হলেন— পূর্ব ভবানীপুর গ্রামের মৃত জগিন্দ্র দেব নাথের ছেলে হেমেন্দ্র দেব নাথ (৩০), মৃত সুবল দেব নাথের ছেলে সত্যেন্দ্র দেব নাথ (সতীনাথ) (৬৫), মৃত অনিল দেবনাথের ছেলে অরুণ দেবনাথ (৪০) এবং একই গ্রামের মৃত অনিল দেবনাথের ছেলে অধীর দেবনাথ (৩৫)।
ঘটনার খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ, সুনামগঞ্জ ও সিলেট ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে দুপুরে অরুণ দেবনাথ (৪০) এবং বিকেল প্রায় ৫টার দিকে সত্যেন্দ্র দেবনাথ (৬৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার হুমায়ুন কবির বলেন, “এত বড় হাওরে নির্দিষ্ট কোনো সীমানা নেই। দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালিয়ে আমরা দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি দুই নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, কীর্তন অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে নৌকাডুবির ঘটনায় চারজন নিখোঁজ হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছে। নিখোঁজদের মধ্যে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, গভীর রাতে হাওরের প্রবল স্রোত ও নৌকার ভারসাম্য হারানোর কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে নৌকাডুবির প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে।