শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তারেক রহমান দেশ চালাতে পারবেন না, উনি পরীক্ষায় ফেল করেছেন, তারেক রহমান কি জুলাইযোদ্ধাদের মেরে ফেলতে চান?’— প্রশ্ন এনসিপির ডা. মাহমুদা মিতুর হবিগঞ্জ শহরে ঢুকতে না পেরে রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র এলাকার রাস্তায় অবস্থান এনসিপির হামলার শিকার নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস, আহত একাধিক সাংবাদিক সিলেটে একই দিনে পৃথক দুই সহিংসতায় স্কুলছাত্র ও যুবক নিহত, আহত কয়েকজন শেখ হাসিনার সঙ্গে ‘গোপনে ফোনালাপ’, পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের আমন্ত্রণ হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন, শিকলবন্দী দুই মেয়ে, অসহায় মায়ের আর্তি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম, চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী

তারেক রহমান কি জুলাইযোদ্ধাদের মেরে ফেলতে চান?’— প্রশ্ন এনসিপির ডা. মাহমুদা মিতুর

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

বিএনপি ও ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও নারী এমপি ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “তারেক রহমান কি জুলাইযোদ্ধাদের, জুলাইয়ের তরুণ নেতাদের মেরে ফেলতে চান?”

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি সিলেট ও গোলাপগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “শেখ মুজিব যেমন জাসদের নেতাদের মেরে ফেলেছিলেন, তারেক রহমানও কি আমাদের হত্যা করে একা রাজনীতি করতে চান? যদি তাই চান, তাহলে তিনি আমাদের স্পষ্ট করে বলুন।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, জুলাই আন্দোলনের নেতারা ধারাবাহিকভাবে হামলার শিকার হচ্ছেন, কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না।

মিতুর ভাষ্য, “জুলাইয়ের নেতাদের ওপর হামলা হচ্ছে, ছাত্রদল-বিএনপি হামলা করছে, কিন্তু তারেক রহমানের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। এভাবে তিনি দেশ পরিচালনা করতে পারবেন না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই এসব হামলা চালানো হয়েছে এবং বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত হচ্ছে।

তার ভাষায়, “আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। এটি কেন্দ্রীয়ভাবে সংগঠিত হচ্ছে। দুই দিন ধরে হামলা হচ্ছে, কিন্তু বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনো বক্তব্য দেয়নি, কাউকে বহিষ্কারও করেনি। বরং পুলিশকে বলা হয়েছে, তোমরা চুপ থাকো।”

সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজ যেভাবে গাড়ির গ্লাস ভেঙেছে, তাতে ঘটনাস্থলেই কেউ মারা যেতে পারতেন। আরেকটি ইট লাগলেই প্রাণহানি ঘটতে পারত।”

এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সময়কার মতো এখন ছাত্রদলকে ‘খুনি বাহিনী’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সারজিস আলম বলেন, “শেখ হাসিনার মতো করে তারেক রহমান এখন ছাত্রদলকে খুনি বাহিনী বানাতে চান কি না, যদি তাই চান তাহলে ঘোষণা দিন। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নেব।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ভাবিনি ছাত্রদলকে এভাবে সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত করা হবে। জানলে আগেই নিরাপত্তা নিয়ে চলতাম। আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখছে। এই পুলিশ বাংলাদেশের পুলিশ নয়, এটি তারেক রহমানের পুলিশ। আমাদের দমন করার জন্য স্বৈরাচারী পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।”

এনসিপি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গোলাপগঞ্জে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে বুধবার দুপুরে সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা গোলাপগঞ্জে যান। তাদের অভিযোগ, আগে থেকেই গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী এলাকায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছিলেন।

এনসিপির দাবি, তাদের গাড়িবহর সেখানে পৌঁছানোর পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’‘এনসিপি ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে অনুষ্ঠান শেষে ফেরার সময় গোলাপগঞ্জ পৌরসভা গেটের নূর ম্যানশনের সামনে সারজিস আলমের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।

তবে এনসিপির এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি, ছাত্রদল কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।