
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করতে পারেনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর বাহুবল উপজেলার রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র এলাকার সড়কে অবস্থান করছে।
হবিগঞ্জ শহরে ঢুকতে না পেরে রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র এলাকার রাস্তায় অবস্থান এনসিপির
বুধবার (২৯ জুলাই) এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা ও দলীয় নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে পথে পথে বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
এর আগে বিকেল ৫টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে রওনা হয়ে শ্রীমঙ্গলের চা কন্যা ভাস্কর্যের সামনে পৌঁছালে পুলিশ সড়কে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, ডা. মাহমুদা জাহান মিতু, সারজিস আলম, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহসহ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দীর্ঘ সময় বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে নেতাকর্মীরা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে সামনের দিকে অগ্রসর হন। পরে তারা হবিগঞ্জের দিকে রওনা দিলেও শেষ পর্যন্ত শহরে প্রবেশ করতে না পেরে রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় অবস্থান নেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ শেষে স্থানীয় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় সারজিস আলমসহ এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন এবং একাধিক গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর একই রাতে এনসিপি বুধবার হবিগঞ্জে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে, একই দিনে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলও পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে।
১৪৪ ধারা কার্যকর থাকায় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।
এদিকে, সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, এনসিপির নেতাকর্মীরা রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র এলাকার সড়কে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের।