
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
সিলেটে একই দিনে পৃথক দুটি সহিংস ঘটনায় এক স্কুলছাত্র ও এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরের কাজিরবাজার সেলফি ব্রিজ এলাকায় ছুরিকাঘাতে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। একই দিন সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত এক যুবকও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

দুটি পৃথক ঘটনায় একই দিনে দুইজনের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ উভয় ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় নগরের কাজিরবাজার সেলফি ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত দক্ষিণ সুরমা ইনডোর স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলা শেষে কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন রিফাত আহমদ (১৫)।
পথে সেলফি ব্রিজ এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে রিফাত গুরুতর আহত হন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিন সহপাঠীও আহত হন।
স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠীরা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাত আহমদের মৃত্যু হয়।
নিহত রিফাত নগরের খাসদবির দারুস সালাম মাদ্রাসা-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মিছবাহ উদ্দিনের একমাত্র ছেলে। তিনি দ্বীপ শিখা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
রিফাতের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তাঁর পরিবারে শোকের মাতম শুরু হয়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন।
এ ঘটনায় রিফাতের সঙ্গে থাকা তাঁর তিন সহপাঠী—রবিউল হাসান (১৬), সাব্বির (১৬) ও সামিউল (১৬)—গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁরা বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির জানান, ঘটনাস্থল দক্ষিণ সুরমা থানার আওতাধীন হওয়ায় ওই থানার পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, একই দিন সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামে বিরোধপূর্ণ একটি বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সোমবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. আব্দুল্লাহ (২৫) গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুল্লাহ স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক আহমদ বদুলার ছেলে।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল হাবিব বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
তিনি জানান, নিহত আব্দুল্লাহর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
একই দিনে নগরের সেলফি ব্রিজ এলাকায় স্কুলছাত্রকে ছুরিকাঘাত এবং সদর উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনার তদন্ত পৃথকভাবে চলছে। সেলফি ব্রিজ এলাকায় হামলার কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, দিঘীরপাড়ের সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।
দুই ঘটনায় নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।