
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৪:৫১
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন বিজিবি সদস্যও রয়েছেন। আহত সবাইকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ছবি সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তবর্তী টিপরাখলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে বিজিবির ওপর হামলা চালায় বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি সদস্যরা ১০ থেকে ১৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে স্থানীয় যুবক আতিক (২২) গুলিবিদ্ধ হন। তিনি নুরনবী মিয়ার ছেলে। গুলিবিদ্ধ আতিকের শরীরে পাঁচ রাউন্ড গুলির আঘাত রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন বিজিবি সদস্য সাহাঙ্গীর আলম (৪৩)। তিনি মাথায় আঘাত পান। এছাড়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিজিবির ল্যান্স নায়েক মো. ওমর ফারুক, স্থানীয় রায়হান মিয়া (২৪) এবং নুরজাহান বেগম (৪০)।
খবর পেয়ে সিলেটের সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নুর আলম, জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা, তদন্ত কর্মকর্তা উসমান গনি ও অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
রাত ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় বিজিবি সদস্যরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত টহলের সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে সীমান্তবর্তী কয়েকটি বসতবাড়ি তল্লাশি ও লাঠিচার্জের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করেন।
এছাড়া গত ২০ জানুয়ারি টিপরাখলা সীমান্ত এলাকায় গরু চোরাচালান প্রতিরোধকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় ৩০ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সেই ঘটনার জের ধরেই বৃহস্পতিবার বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ১৯ বিজিবি জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছেন।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।