
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি, আব্দুল বাছিত খান,
প্রকাশিত, ১০,৬,২০২৬,
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া ও ডবলছড়া চা বাগান এলাকায় দুর্বৃত্তদের দ্বারা জোরপূর্বক কৃষিপণ্য লুট এবং পান গাছ কেটে ফেলার ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্ত গোষ্ঠী বর্তমানে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চা বাগানের হাজারো শ্রমিকের মধ্যে অল্প কিছু শ্রমিক বাগানে কাজ করলেও বাকিরা কৃষিকাজ ও পশুপালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
ডবলছড়া (সুনছড়া) চা বাগানের নন-ওয়ার্কার শ্রমিকরা নিজেদের ভিটেবাড়ির আশপাশে এবং বাগানের পতিত জমিতে পান ও লেবুর চাষ করে থাকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি দুর্বৃত্ত চক্র এসব কৃষিপণ্য জোরপূর্বক বাজারে নিতে বাধা দেয় এবং হুমকি দিয়ে নিজেদের কাছেই বিক্রি করতে বাধ্য করে। এতে উৎপাদিত পণ্য বাজারমূল্যের এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধেক দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন শ্রমিকরা।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, বাজারে বিক্রি করতে গেলে বা অন্য ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রির চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা বাধা দেয়। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় শ্রমিকদের পান গাছসহ বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে, যা তাদের জীবিকা ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি করছে।
মানববন্ধনে সর্বস্তরের চা শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা কৃষিপণ্য লুট ও পান গাছ ধ্বংসের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক আদিবাসী ফ্রন্টের সভাপতি পরিমল বাড়াইক, শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী, ইউপি সদস্য পারতালি রাজভর, গোপাল গোয়ালা, জনক লাল দেশওয়ারা, লসমি রাজভর, চা শ্রমিক ও দলিত জনগোষ্ঠীর নেতা সুনীল মৃধা, নারী নেত্রী গীতা কানু, সীতারাম বীন এবং কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রত্যুষ ধর।
বক্তারা বলেন, কৃষকের উৎপাদিত ফসল ও কৃষি সম্পদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, এটি পুরো এলাকার কৃষি অর্থনীতির ওপর আঘাত। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দেন এবং দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।