সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণাকালে বিচারক বলেন, শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামির জবানবন্দিতে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সোহেল রানা জবানবন্দিতে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। অপরদিকে, তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন ঘটনাটি গোপন রাখা এবং তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার মাধ্যমে অপরাধে সহযোগিতা করেছেন।

আদালত আরও বলেন, আসামিদের অপরাধ অত্যন্ত জঘন্য ও নৃশংস। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে যথাযথ শাস্তি প্রদান না করলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে। তাই উভয় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

গত বৃহস্পতিবার মামলার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত ৭ জুন রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন।

আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ইতিহাসে এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী মামলা। কারণ মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যেই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাপ্য।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেন। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং ছয় দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

পরে ১ জুন মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২ জুন নিহত রামিসার পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তা এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সব কার্যক্রম শেষে মাত্র চার দিনের মধ্যেই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।