সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

পুলিশের অভিযানে পর্যটকবাহী বাস থেকে ৬৫ পিস ভারতীয় কম্বলসহ একজন আটক

সিলেট প্রতিনিধি, সিলেটি চ্যানেল

 

সিলেট প্রতিনিধি : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানে একটি পর্যটকবাহী বাস থেকে ৬৫ পিস ভারতীয় কম্বল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজন যুবককে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত কম্বলগুলো অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট–তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর থানার সম্মুখে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হয়।

তল্লাশির একপর্যায়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের একটি পর্যটকবাহী বাস (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা-মেট্রো-ব-১৫-১৯৭৭) থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। বাসের ভেতরে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ৬৫ পিস ভারতীয় কম্বল পাওয়া যায়। এ সময় কম্বলগুলোর মালিকানা সন্তোষজনকভাবে প্রমাণ করতে না পারায় একজনকে আটক করে পুলিশ।

আটক ব্যক্তি হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার গোলাকান্দা ইউনিয়নের কুমারটেক গ্রামের ফারুক ভূঁইয়ার ছেলে সজীব ভূঁইয়া (২৩)।

পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত কম্বলগুলো ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন,
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত তল্লাশি চালাচ্ছি। এরই অংশ হিসেবে একটি পর্যটকবাহী বাস তল্লাশি করে ৬৫ পিস ভারতীয় কম্বল উদ্ধার করা হয় এবং একজনকে আটক করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান রোধে আমাদের অভিযান নিয়মিত ও জোরদার করা হয়েছে।”

স্থানীয়রা জানান, জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকা হওয়ায় প্রায়ই চোরাচালানের চেষ্টা চালানো হয়। তবে পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও তৎপরতায় এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চোরাচালান ও অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।