
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত ০৯:০৫৪
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর একটি হলো গণতন্ত্রের উত্থান-পতনের ইতিহাস। সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আবারও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চরিত্রকে ‘গণতন্ত্রবিরোধী’ আখ্যা দিয়েছেন।
৬ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দেশের গণতন্ত্রের অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
৬ ডিসেম্বরকে “অবিস্মরণীয় দিন” হিসেবে উল্লেখ তারেকের
তারেক রহমান তার বার্তায় উল্লেখ করেন,
৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার এক অবিনাশী স্মারক। ১৯৯০ সালের এই দিনে দীর্ঘ সংগ্রামের পর অবসান ঘটে সামরিক স্বৈরশাসনের।”
তিনি বলেন, স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ অস্ত্রের মুখে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে অপসারণ করে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে ভেঙে দিয়েছিলেন।
তার ভাষায়, বহুদলীয় গণতন্ত্রের যে ভিত্তি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিকে নির্মমভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
তারেকের দাবি, এরশাদের শাসনামলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে নিষ্ক্রিয় ও অকার্যকর করে ফেলা হয়, আর সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছরের দুর্বার আন্দোলন পরিচালনা করেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ‘আপোষহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান।
১৯৯০ থেকে ২০২৪—দুটি আন্দোলনের মধ্যে মিল খুঁজছেন তিনি
তারেক রহমান বলেন
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিদ্রোহের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে।
তার মতে, সেই একই চেতনায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে দেশ আবারও “ফ্যাসিবাদী শক্তিকে” পরাজিত করেছে।
পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন,
ঐতিহাসিকভাবেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের ভয়ংকর শত্রু।”
খালেদা জিয়ার ওপর নির্যাতন ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ
তারেক রহমান বলেন, শেখ হাসিনার “দুঃশাসনের” সময় বেগম খালেদা জিয়ার ওপর জেল-জুলুম ও নানামাত্রিক নির্যাতন চাপানো হয়েছিল, যা তার অসুস্থতার মূল কারণ।
তিনি আরও বলেন—
“অবিরাম নির্যাতনে দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য এখন চরম সংকটে। আমরা আল্লাহর কাছে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”
তিনি একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তির হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর সংঘটিত হয়রানি, নির্যাতন ও গ্রেফতারের কথাও উল্লেখ করেন।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতন্ত্ররক্ষায় ঐক্যের আহ্বান
তারেক রহমান ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলা আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান।
গণতন্ত্রবিরোধী পরাজিত শক্তি যাতে আর পুনরুত্থান ঘটাতে না পারে, সেই লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক শক্তিকে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

ছবি সংগৃহীত