
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় পূর্বপরিচিতদের ডাকে সাড়া দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন এক যুবক। দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার দুই হাতের কব্জি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে বটিয়াঘাটা উপজেলার দারোগার ভিটা এলাকায়। আহত যুবকের নাম আক্তার হোসেন। তিনি খুলনা নগরীর গল্লামারি এলাকার চাঁদ আলী মোল্লার ছেলে এবং বড় বাজার এলাকার একটি হোটেলে কর্মরত ছিলেন।
ভুক্তভোগী আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সকালে তিনি নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তাদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বটিয়াঘাটা উপজেলার দারোগার ভিটা এলাকায় গেলে হঠাৎ করে চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি তাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই হাতের কব্জিতে একের পর এক কোপ দিতে থাকেন।
তিনি আরও জানান, আকস্মিক হামলায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার দুই হাত রক্তাক্ত হয়ে যায়। তার চিৎকারে আশপাশের স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি করেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. বাপ্পা রাজ জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আক্তার হোসেনের ডান ও বাম হাতের নিচের অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষ করে বাম হাতের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) এ রেফার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, দুর্বৃত্তরা আক্তার হোসেনের পূর্বপরিচিত। সকালে মোটরসাইকেলে করে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। হামলার সময় চারজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।