
বরিশাল প্রতিনিধি: ২১, ডিসেম্বর ২০২৫
বরিশালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নারী নেত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী নেত্রী ১৮ ডিসেম্বর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় বাদী হয়ে সুয়ান আল তালুকদার (২৪) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযুক্ত সুয়ান বরিশাল নগরের কাউনিয়া থানাধীন মনষা বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি জুলাই আন্দোলনে বরিশালে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে।
পরিচয় থেকে সম্পর্ক, তারপর অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ভুক্তভোগী নারী নেত্রীর সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব এবং একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, ওই যুবক বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় বাদীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে তিনি বাদীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
হোটেলে নিয়ে ভিডিও ধারণের অভিযোগ
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১১ অক্টোবর বরিশাল নগরের সদর রোড এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে বাদীকে ধর্ষণ করা হয় এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বাদীর ওপর শারীরিক নিপীড়ন চালানো হয়।
বাদী বিয়ের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্ত যুবক বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বিয়ে অস্বীকার ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, ১৭ ডিসেম্বর দুপুরে বিয়ের কথা বলে অভিযুক্ত যুবক বাদীকে নগরের নবগ্রাম রোড এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি সরাসরি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
এ সময় অভিযুক্ত যুবক বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলের হেলমেট দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। বাদী মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি মুখে লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত জখম হন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
ঘটনার পর ১৮ ডিসেম্বর বাদী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ ও পোস্টের মাধ্যমে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর অভিযুক্ত সুয়ান আল তালুকদারও নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পুলিশের বক্তব্য
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলাটি নিয়মিতভাবে তদন্তাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন,
মামলাটি আমরা আমলে নিয়েছি। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।”
তদন্ত চলমান
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।