
প্রকাশিত: ০১-০৭-২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রেমের নামে প্রতারণার মামলায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. সোহেল উদ্দিন প্রিন্সকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার ইভা এ আদেশ দেন।

বাদিনীর আইনজীবী কামরুজ্জামান শাহীন এনটিভি অনলাইনকে জানান, গত ৯ জুন একই আদালত সোহেলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। পরে আজ মামলার বাদী সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী আসামি সোহেলের জামিন বাতিলের আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট সোহেল বাদিনীর সঙ্গে আপস করার শর্তে জামিন নেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত মামলার বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট কোনো আপস-মীমাংসা করেননি। তাই তার জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে সোহেলের আইনজীবী আবুল কালাম খান আদালতে বলেন, অভিযুক্ত সোহেল বাদিনীর কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি। বাদিনী মিথ্যা অভিযোগে তাকে হয়রানি করছেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক সোহেলের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর অভিযুক্ত সোহেল উদ্দিন প্রিন্সের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী।
এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে বাদিনী ও সোহেল উদ্দিন প্রিন্স ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরিচয়ের সূত্রে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সোহেল উদ্দিন বাদিনীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। বাদিনী ও তার পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে ২ কোটি ৩২ লাখ ১১ হাজার টাকা নেন। পরে তিনি বাদিনীকে বিয়ে করেননি এবং নেওয়া টাকাও ফেরত দেননি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি কোতোয়ালী থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সোহেল উদ্দিন ছুটিতে যান। ছুটিতে থাকাকালীন যদি কোনো ব্যক্তিগত ঘটনায় তিনি কারাবন্দি হয়ে থাকেন, তাহলে সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। এটি কোনো সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সংঘটিত ঘটনা নয়।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মনতলা গ্রামের মৃত মো. হাবিব উল্লার ছেলে মো. সোহেল উদ্দিন বর্তমানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালী থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হিসেবে কর্মরত। তিনি ২০১৭ সালে ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে উত্তীর্ণ হন। মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মজীবনে তিনি একের পর এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।