শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

এ বছরই দেশে ফিরবেন বলে ঘোষণা শেখ হাসিনার,

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত: ২০২৬-০৬-২৮
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও আইনি বাধা উপেক্ষা করেই তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে নয়; বরং বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, জীবনে বহুবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনা এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো কঠিন সময় অতিক্রম করেও তিনি জনগণের পাশে ছিলেন। এবারও সব বাধা অতিক্রম করে দেশের মানুষের কাছে ফিরে আসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি রাজনৈতিক দল। তিনি দাবি করেন, দলটির ৭৭ বছরের ইতিহাসে বহু প্রতিকূলতা এলেও প্রতিবারই জনগণের সমর্থনে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে জনগণের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন মামলার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলের সমর্থনে কর্মসূচি পালন করছেন, যা দলের পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত বহন করে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ এবং সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জনও নাকচ করে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না। গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার কোনো গোপন সমঝোতার বিষয় নয়, এটি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।”

ভারতে অবস্থান করলেও তার মন সবসময় বাংলাদেশে পড়ে থাকে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাবার সমাধি ও দেশের মানুষের কথা তাকে প্রতিনিয়ত নাড়া দেয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সমর্থনেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং আওয়ামী লীগ আবারও জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াবে।