
প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-০২
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের কালিঘাট-মনু-ধলই সার্কুলার সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রকল্পে আবারও গতি ফিরেছে। স্থানীয়দের বাধার মুখে টানা তিন দিন কাজ বন্ধ থাকার পর গুণগত মান নিশ্চিতের শর্তে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান এবং উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আব্দুর রাকিব নির্মাণাধীন সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্লাবন পাল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন জারু, আশিদ্রোন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রনেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন জহর, বিএনপি নেতা মশিউর রহমান রিপন, শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. কামাল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ শোনেন। এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজে গাফিলতির মাধ্যমে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার স্থানীয়রা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এদিকে সড়ক পরিদর্শনের আগে ঘটনাস্থলে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকির ঘাটতির বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদিত নকশা ও কার্যসূচি (শিডিউল) অনুযায়ী গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন ‘শ্রীমঙ্গল হোসনাবাদ সড়কে ৪ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়। একই সঙ্গে বুধবার সকালে প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড স্থাপন করতেও দেখা যায়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সানি এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছিল। তবে এলাকাবাসীর আপত্তির কারণে তিন দিন কাজ বন্ধ ছিল। ইউএনও মহোদয়ের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। এখন গুণগত মান নিশ্চিত করেই পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাকিব বলেন, কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল। সরেজমিনে এসে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে। আগামীতে নির্ধারিত মান বজায় রেখে যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ইটের খোয়া, পাথর, গাইডওয়ালসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান যাচাই করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ তদারকির জন্য স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ গ্রহণযোগ্য হবে না।