মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ শ্রীমঙ্গলে ২১ বোতল ভারতীয় মদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের চাপায় চালকের মৃত্যু সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮

সিলেটের আবাসিক হোটেলগুলো কি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়স্থল?

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

প্রকাশিত, ২৫,৬,২০২৬ সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নতুন নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান, জড়িতদের আটক এবং একের পর এক হোটেল সিলগালা করার পরও বন্ধ হচ্ছে না এসব কার্যক্রম। বরং প্রশাসনের নজরদারির ফাঁক গলে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে একটি চক্র— এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর বন্দরবাজার, সুরমা পয়েন্ট, তালতলা, শেখঘাট, রিকাবীবাজার, আম্বরখানা, শাহজালাল (রহ.) দরগাহ গেইট, জিন্দাবাজার, সোবহানীঘাট, নাইওরপুল, শিবগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমার কদমতলী, হুমায়ুন রশীদ চত্বর, লাউয়াইসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অনেক আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময় সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য ও ইউনিফর্মধারী পুলিশ এসব হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করেছে। পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়ায় একাধিক হোটেল সিলগালাও করা হয়েছে। তবে অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পরে আবারও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযানে আটক হওয়া অনেকেই পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

সর্বশেষ গত ২৩ জুন সিলেট মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নগরীর তালতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘রহমানিয়া বোর্ডিং’ ও ‘ছাদী গেস্ট হাউস’ নামের দুটি আবাসিক হোটেল সিলগালা করে। এ সময় অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিন নারী-পুরুষসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়।

এর আগে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে নগরীর ‘তালহা রেস্ট হাউস’, ‘এলাহী আবাসিক হোটেল’, ‘হোটেল অতিথি’, ‘হোটেল সুফিয়া’ এবং ‘নিউ হোটেল লেমন গার্ডেন’-এ অভিযান চালিয়ে বহু নারী-পুরুষকে আটক করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করা হয়।

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে দক্ষিণ সুরমার ‘সিলেট রেস্ট হাউজ’, ‘গ্র্যান্ড সাওদা’, ‘আল সাদী হোটেল’ এবং তালতলার ‘হোটেল বিলাশ’-এ অভিযান চালিয়ে প্রশাসন জড়িতদের আটক করে। একইভাবে জিন্দাবাজারের ‘হোটেল রাজমনী’, আম্বরখানার ‘হোটেল নূরানী’ ও ‘হোটেল আলীবাবা’র বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধুমাত্র অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; একই অপরাধে বারবার জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

তোপখানা এলাকার বাসিন্দা সায়হাম আহমদ তপু বলেন, “অভিযান হয়, কিন্তু কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। বারবার একই অপরাধ করলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা প্রয়োজন।”

জিন্দাবাজার এলাকার ইউসুফ আলী ঝিনুক বলেন, “পরিবার নিয়ে চলাফেরার সময় অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আবাসিক হোটেলগুলোকে আরও কঠোর নজরদারির আওতায় আনা উচিত।”

চৌহাট্টা এলাকার একেএম হাসান মনে করেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে নৈতিক অবক্ষয় বাড়াচ্ছে। শুধু কর্মচারী নয়, হোটেল মালিকদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।”

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, সিলেট মহানগরীতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হোটেলও সিলগালা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা পেলে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর আবাসিক হোটেল মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার কঠোর নির্দেশনা দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু হোটেল মালিক সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোপনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন। পরবর্তীতে বারবার অভিযানের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সিলগালা করার কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু করে এসএমপি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান, কঠোর নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতার সমন্বয়েই কেবল এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।