মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮ মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সিলেটে কিশোর ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসের রহমান দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা নিয়ে মালয়েশিয়ার আপত্তি শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশের অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ আটক ৪ বড়লেখা সীমান্তে ১ হাজার ৭৭০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন আটক মৌলভীবাজার চলন্ত টমটম থেকে লাফ, কলেজছাত্রীর ২ দাঁত ভাঙল

জুলাই-আগস্টে বন্যার আশঙ্কা, সতর্ক করল বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-০৩
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। উজানে ভারী বৃষ্টিপাত এবং বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনার কারণে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই ও আগস্ট মাসে সব সময়ই বন্যার ঝুঁকি থাকে। এ সময় দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।

তিনি জানান, চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে বর্ষা মৌসুমের এই সময়েই দেশের বড় বড় বন্যাগুলো সংঘটিত হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অতিবৃষ্টির কারণে দেশের প্রায় ৮২ হাজার বর্গকিলোমিটার, অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।

এছাড়া ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক বন্যা টানা দুই মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়। ওই বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষ পানিবন্দি বা বাস্তুচ্যুত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর একসঙ্গে উচ্চ প্রবাহ দেখা দিলে বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। ২০০৪ সালের বন্যায় দুই নদীর প্রবাহ একত্রিত হওয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।

অন্যদিকে ২০২২ সালের মেঘনা অববাহিকার বন্যা এবং ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সম্মিলিতভাবে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় চলতি বর্ষায়ও আগাম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সারদার উদয় রায়হান বলেন, বর্তমানে এফএফডব্লিউসি দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। তবে উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন দিন আগে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। একই সময়ে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে মেঘনা অববাহিকার অবস্থাও স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার প্রভাবে দেশের উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৪ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি বা সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেলেও তা বিপৎসীমার নিচে থাকবে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদ-নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে, ফলে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের তারাপুর, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, সুনামগঞ্জের মারকুলি এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা এলাকার কয়েকটি নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক নজর রাখার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।