
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিদেশে চিকিৎসা বাবদ সরকারি অর্থ ব্যয়ের তথ্য প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

একটি জাতীয় দৈনিকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে লাখ লাখ টাকা বিল নিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশে চিকিৎসা বাবদ সর্বোচ্চ অর্থ গ্রহণ করেছেন সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি চিকিৎসার জন্য মোট ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা বিল নিয়েছেন।
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বিদেশে চিকিৎসা বাবদ ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার ২২৯ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে গ্রহণ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন চিকিৎসা বাবদ ৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৪ টাকা, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ৭ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৯ টাকা, বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৫ টাকা, প্রয়াত ভূমি উপদেষ্টা হাসান আরিফ ২ লাখ ৬৭ হাজার ২১৬ টাকা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. এম. আমিনুল ইসলাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৯ টাকা এবং খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার ১ লাখ ৭০ হাজার ১৩৪ টাকা চিকিৎসা ব্যয় হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান এবং উপদেষ্টা শেখ মইনউদ্দিন-এর বিদেশে চিকিৎসা বাবদ সরকারি অর্থ গ্রহণের তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই সরকারি অর্থে বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা, ব্যয়ের পরিমাণ এবং এর নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন, আইন অনুযায়ী অনুমোদন নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া হলে সেটি বৈধ প্রক্রিয়ার মধ্যেই পড়ে।
এ বিষয়ে আ ফ ম খালিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, হৃদরোগের জটিলতার কারণে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেয়। সরকারের অনুমোদন নিয়েই তিনি থাইল্যান্ডে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করান। তার দাবি, দেশে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থাকলে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হতো না। তিনি আরও বলেন, সরকারি বিলের বাইরেও নিজের ব্যক্তিগত অর্থ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যয় করেছেন।
অন্যদিকে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে তার শারীরিক সমস্যার সঠিক রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়নি। পরে সরকারি অনুমোদন নিয়ে তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সুবিধা বিদ্যমান আইন ও সরকারি বিধিমালার আওতায় পরিচালিত হয়। তবে সাম্প্রতিক এই তথ্য প্রকাশের পর সরকারি ব্যয়, স্বচ্ছতা এবং জনজবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।