বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮ মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সিলেটে কিশোর ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসের রহমান

২০২৫ সালে মব সন্ত্রাসে ১৯৭ জন নিহত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রাণ হারান ২৯৩ জন,

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত : ২ জানুয়ারি ২০২৬

২০২৫ সালে দেশে মব সন্ত্রাস ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ধারায় বছরজুড়ে অন্তত ১৯৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত “বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২৫: আসকের পর্যবেক্ষণ” শীর্ষক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর, সংস্থাটির নিজস্ব পর্যবেক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ের তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে মোট কমপক্ষে ২৯৩ জন মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন। এ সহিংসতায় নারী-পুরুষের পাশাপাশি ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা ও বাউল সম্প্রদায়ের সদস্যদের হেনস্তা, মারধর এবং জুতার মালা পরানোর মতো অপমানজনক ঘটনাও ঘটেছে।

আসকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ঢাকায় মব সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ২৭ জন, গাজীপুরে ১৭ জন, নারায়ণগঞ্জে ১১ জন, চট্টগ্রামে ৯ জন এবং কুমিল্লায় ৮ জন। এছাড়া ময়মনসিংহ, বরিশাল, নোয়াখালী, গাইবান্ধা ও শরীয়তপুরে ৬ জন করে নিহত হয়েছেন। লক্ষ্মীপুর ও সিরাজগঞ্জে প্রাণ হারান ৫ জন করে এবং নরসিংদী ও যশোরে নিহত হন ৪ জন করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে গণপিটুনির ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৭ জন ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য, ৩ জন নারী এবং একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি—যা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর মব সহিংসতার অসম প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

আসকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাজনৈতিক মতভেদ, ধর্মীয় উগ্রবাদ, গুজব এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ মব সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ‘তওহীদী জনতা’ নাম ব্যবহার করে ইতিহাস, শিল্প ও সাহিত্য সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ভাঙচুরের পাশাপাশি নারী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের হেনস্তার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

প্রতিবেদন আরও জানায়, ২০২৫ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যার অন্তত ৩৮টি ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় শারীরিক নির্যাতন, যৌথ বাহিনীর হেফাজত এবং তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২৬ জন নিহত হন। থানায় হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১২টি। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ২১।

একই বছরে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কমপক্ষে ১০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬৯ জন হাজতি এবং ৩৮ জন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি। সর্বাধিক ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

আসক জানায়, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে নজিরবিহীন। এতে সাংবাদিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা চরমভাবে হুমকির মুখে পড়ে এবং সাময়িকভাবে পত্রিকা দুটির মুদ্রিত ও অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়—যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভিন্নমত প্রকাশের কারণে মামলা, গ্রেপ্তার ও রাষ্ট্রীয় চাপ গণতান্ত্রিক পরিসরকে ক্রমেই সংকুচিত করছে।

আসকের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশে ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ জন নিহত এবং প্রায় ৪ হাজার ৮৪৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ৩৮১ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন। এর মধ্যে তিনজন সাংবাদিক নিহত হন এবং চারজনের মরদেহ রহস্যজনকভাবে উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া, ২০২৫ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত ৪২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগ উঠে আসে। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। একই সময়ে একটি বৌদ্ধ মন্দিরেও হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়, মব গঠন করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর পরিকল্পিত হামলা, হত্যা ও লুটপাট দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।