
ঢাকা প্রতিনিধি | প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯:২৮
জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রনায়ক, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ কমপ্লেক্সে দাফন করা হয়েছে। জাতীয় ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশেই এই বিপ্লবী শহীদের শেষ ঠিকানা নির্ধারিত হয়।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে দাফনের আগে শহীদ হাদিকে শেষবারের মতো বিদায় জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত সহযোদ্ধা, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।
সমাধিস্তম্ভের লিপিতে যা লেখা
দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর শহীদ ওসমান হাদির কবরের ওপর স্থাপিত সমাধিস্তম্ভে একটি লিপি খোদাই করা হয়। সেখানে লেখা রয়েছে—
আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি
(১৯৯৩–২০২৫)
শাহাদাত: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫”
এই লিপিটি উপস্থিতদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। অনেকেই সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জাতীয় সংসদ ভবন থেকে ঢাবি পর্যন্ত শোকযাত্রা
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে শহীদ হাদির মরদেহ দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে নিয়ে আসা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঢাবির পথে রওনা হলে পথে পথে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ লাশবাহী গাড়ির পেছনে পেছনে ছুটতে থাকেন। কেউ কেউ গাড়ির ওপর উঠে বসে শেষ বিদায় জানান প্রিয় সহযোদ্ধাকে।
ঢাবিতে শোকের আবহ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে শহীদ হাদির মরদেহ পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুরো এলাকা পরিণত হয় এক শোকাবহ পরিবেশে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন—
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান,
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম,
ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ,
এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ,
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ জুলাই বিপ্লবের প্রথম সারির অনেক নেতা ও সহযোদ্ধা।
কবরে নামানোর মুহূর্ত
মাত্র ৩৪ বছর বয়সী এই শহীদের মরদেহ কবরে নামানোর সময় আবারও কান্নার রোল পড়ে যায়। মাহমুদুর রহমান, সাদিক কায়েম, হাসনাত আবদুল্লাহসহ ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধারা অশ্রুসিক্ত চোখে তাকে কবরে শায়িত করেন। উপস্থিত সবাই যেন আপনজন হারানোর বেদনায় স্তব্ধ হয়ে যান।
মোনাজাতে অশ্রুসিক্ত ঢাবি
দাফন শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। মোনাজাতের সময় পুরো কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে। সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ কাঁদতে কাঁদতে শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
অনেকের চোখে-মুখে ছিল একই অনুভূতি—শহীদ হাদির মৃত্যু যেন শুধু একজন বিপ্লবীর নয়, বরং একটি প্রজন্মের প্রিয় সহযোদ্ধাকে হারানোর শোক।