
নয়াদিল্লিতে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ফুফাতো ভাই প্রধান সন্দেহভাজন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৫৩, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ভারত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য রাস্তায় এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে দুই ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ এলাকার চৌহান বাঙ্গারে এ ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুই ভাইকে লক্ষ্য করে মোট ৪৮ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়, যার মধ্যে ৩৫টিই তাদের শরীরে বিদ্ধ হয়।
নিহতরা হলেন মোহাম্মদ ফাজিল (৩১) ও মোহাম্মদ নাদিম (৩৩)। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে মায়ের সঙ্গে রাতের খাবারের জন্য বাইরে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
স্কুটারে থাকা অবস্থায় গুলি
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফাজিল ও নাদিম স্কুটারে করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা তিনজন হামলাকারী তাদের পথরোধ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই ফাজিল নিহত হন। গুরুতর আহত নাদিমকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তদন্তে জানা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে উন্নতমানের বিদেশি পিস্তল ‘জিগানা’। ফাজিলের শরীরে গুলি লাগে ২০টি এবং নাদিমের শরীরে লাগে ১৫টি। ঘটনাস্থল থেকে তিন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ব্যবসায়িক বিরোধ থেকে হত্যাকাণ্ড
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ব্যবসায়িক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সন্দেহভাজনদের একজন আসাদ কুরেশি—নিহত দুই ভাইয়ের ফুফাতো ভাই। ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, আসাদ কুরেশি এর আগে একটি খুনের মামলায় কারাবন্দি ছিলেন এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। তিনি ধারণা করতেন, নাদিম পুলিশকে তথ্য দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করিয়েছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই প্রতিশোধমূলক এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
গ্যাং সংযোগ ও অপরাধ ইতিহাস
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আসাদ কুরেশি একাধিক অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং কুখ্যাত হাশিম বাবা গ্যাংয়ের সদস্য ববি কবুতরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। অন্যদিকে, নাদিম জ্যাকেটের ব্যবসার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে দাবি পুলিশের। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ
নিহতদের বড় ভাই ওয়াসিম জানান, হামলাকারীদের মধ্যে আসাদকে তিনি স্পষ্টভাবে চিনতে পেরেছেন। ওয়াসিম বলেন,
“আসাদ আমাদের ফুফুর ছেলে। সে আগেও হুমকি দিয়েছিল। পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছিল। তারপরও সে আমার দুই ভাইকে হত্যা করল।”
তিনি আরও জানান, নাদিম শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন। পাঁচ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি পঙ্গু হয়ে যান এবং হাঁটতে পারতেন না।
গ্রেপ্তারে মাঠে পুলিশ
হত্যাকাণ্ডের পর পুরো জাফরাবাদ এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে দিল্লি পুলিশ ছয়টি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনের সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।