
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ |
গত নভেম্বর মাসে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এ সময়ে দেশে মোট ৫২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০৭ জন নিহত এবং ৮৯৯ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনটি জানায়, বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয়, আঞ্চলিক এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরে শুধু সড়কেই নয়—রেল ও নৌপথেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে
রেলপথে ৪৪টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ১ জন আহত,
নৌপথে ৭টি দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত এবং ৪ জন নিখোঁজ হন।
সব মিলিয়ে নভেম্বর মাসে ৫৭৭টি দুর্ঘটনায় ৫৩৩ জন নিহত এবং ৯০০ জন আহত হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ১৫৫টি দুর্ঘটনায় ১৩২ জন নিহত ও ২৫৭ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে—১৯টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৮৯ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে মোটরসাইকেল। মাসজুড়ে ১৯৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০১ জন নিহত এবং ১৭১ জন আহত হন।
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মোট ৭৪৬টি যানবাহনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
মোটরসাইকেল (৩১.২৩%), ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি (২০.২৪%), বাস (১৩%), ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক (১৩%), সিএনজিচালিত অটোরিকশা (৭.১০%), নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা (৯.১১%) এবং কার-জিপ-মাইক্রোবাস (৬.১৬%)।
নিহত ও আহতদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চালক, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী, শিশু, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত।
দুর্ঘটনা কমাতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়ক দ্রুত মেরামত, রাতে মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, যানবাহনের ডিজিটাল ফিটনেস নিশ্চিত করা, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ।