সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
চা শ্রমিক ইউনিয়নের দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন জগন্নাথপুরে কীর্তন শেষে ফেরার পথে নৌকাডুবি: ২ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ আরও ২ তারেক রহমান দেশ চালাতে পারবেন না, উনি পরীক্ষায় ফেল করেছেন, তারেক রহমান কি জুলাইযোদ্ধাদের মেরে ফেলতে চান?’— প্রশ্ন এনসিপির ডা. মাহমুদা মিতুর হবিগঞ্জ শহরে ঢুকতে না পেরে রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র এলাকার রাস্তায় অবস্থান এনসিপির হামলার শিকার নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস, আহত একাধিক সাংবাদিক সিলেটে একই দিনে পৃথক দুই সহিংসতায় স্কুলছাত্র ও যুবক নিহত, আহত কয়েকজন শেখ হাসিনার সঙ্গে ‘গোপনে ফোনালাপ’, পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের আমন্ত্রণ হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন,

শেখ হাসিনার ভারতে থাকা সম্পূর্ণই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর..

এম ডি রহিম ডেস্ক রিপোর্ট | সিলেটি চ্যানেল

 

ডেস্ক রিপোর্ট | সিলেটি  চ্যানেল ডেস্ক
আপডেট: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | সময়: ০৪:৩৪ পিএম

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান থাকবে কি না—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভারত এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক নির্দেশনা বা চাপ সৃষ্টি করছে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

ভারতের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির প্রধান নির্বাহী ও সাংবাদিক রাহুল কানওয়ালের এক প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর এ মন্তব্য করেন। এনডিটিভির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

তিনি কোন পরিস্থিতিতে ভারতে এসেছেন—সেটিই মূল বাস্তবতা”

শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এস জয়শঙ্কর বলেন,
“তিনি যে পরিস্থিতিতে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।”

তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, শেখ হাসিনার অবস্থানকে ভারত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করছে না; বরং এটি একটি ব্যক্তিগত ও পরিস্থিতিনির্ভর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে।

কোন প্রেক্ষাপটে ভারতে শেখ হাসিনা

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন দমনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি ও বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং আহত হন কয়েক হাজার।

তীব্র রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের মুখে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এবং পরে ভারতের সহায়তায় দেশ ত্যাগ করেন। এরপর থেকেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।

মৃত্যুদণ্ডের রায় ও আইনি জটিলতা

গত মাসে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিত অবস্থায় ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। মামলাটি ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সংক্রান্ত।

এই রায়ের ফলে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও আইনি ভবিষ্যৎ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলেও তার অবস্থান ঘিরে আলোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতের বার্তা

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত তার প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রত্যাশা করে।

তিনি বলেন,
“বর্তমান নেতৃত্ব অতীতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদি নির্বাচন ঘিরেই সংকট তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে অগ্রাধিকার হওয়া উচিত একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা।”

এই বক্তব্যকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা বিষয়ে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান

এস জয়শঙ্কর আরও বলেন, দু’দেশের সম্পর্ক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে।
আমরা বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জনগণের মতামত প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা চায়—এ কথাও স্পষ্ট করেন তিনি।

কূটনৈতিক ভারসাম্যের বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে জয়শঙ্করের বক্তব্য ভারতের কৌশলগত ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানকে প্রকাশ করে। একদিকে মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত বাস্তবতা স্বীকার করা হচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সার্বভৌম ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত না হওয়ার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।

 

 

অনলাইন সংস্করণ