আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার,
Reporter Name
Update Time :
মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
/
সিলেটি চ্যানেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫
দক্ষিণ এশিয়ার ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে আবারও অনুভূত হলো কম্পন। সোমবার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারসহ আশেপাশের কয়েকটি এলাকায় ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎস ছিল মিয়ানমারের ফালাম এলাকায়—এমনটি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এবং ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC)।
ভূমিকম্পের উৎপত্তি ও মাত্রা
USGS জানায়—রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.৯ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের ফালাম, যার কেন্দ্রের গভীরতা ছিল ১০৬.৮ কিলোমিটার। EMSC–এর প্রকাশিত তথ্যেও একই মাত্রা ও একই উৎসের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে প্রায় ৪৩১ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পের সময় ও কেন্দ্র সম্পর্কে তাদের তথ্যও আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়।
যেসব এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে
ভূমিকম্প বিশেষ করে বাংলাদেশের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কম্পন অনুভূত হয়েছে—
কক্সবাজার শহর
উখিয়া
চকরিয়া
চট্টগ্রাম মহানগর
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা
এ ছাড়া উত্তর-পূর্ব ভারত, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, এবং সিলেট বিভাগেও হালকা কম্পন অনুভব করার রিপোর্ট পাওয়া গেছে—বাংলাদেশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ দলের তথ্যমতে।
স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা
কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ভূমিকম্পের কম্পন খুব বেশি তীব্র না হলেও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয় এবং স্থায়িত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ড। গভীর রাতে আকস্মিক কম্পনে অনেকেই ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে সাময়িক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর নেই
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ থেকেই কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের মাত্রা তুলনামূলক কম হওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে।
গত ২১ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত অষ্টম ভূমিকম্প
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে ছোট ছোট ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে।
২১ নভেম্বর নরসিংদীতে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশজুড়ে কম্পন অনুভূত হওয়ার পর থেকে এটি ছিল টানা অষ্টমবারের মতো ভূমিকম্প।
একাধিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই ধারাবাহিকতা ভূ-তাত্ত্বিক চাপ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে।
উদ্বেগ বাড়ছে জনগণের মাঝে
ক্রমাগত ভূমিকম্পের ঘটনায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন—যে কোনো বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময়ই থাকে, তাই সচেতনতা ও প্রস্তুতি বাড়ানো প্রয়োজন।