বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জৈন্তাপুরে লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের চাপায় চালকের মৃত্যু সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮ মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সিলেটে কিশোর ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার,

মোহাম্মদপুরে পার্ক থেকে পেট্রোল বোমা–ককটেল উদ্ধার: বড় নাশকতা ঠেকালো র‍্যাব

Reporter Name

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫

 

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে লালমাটিয়া ত্রিকোণ পার্কের ভেতর থেকে সাতটি পেট্রোল বোমা এবং চারটি ককটেলসহ বিপুল পরিমাণ নাশকতামূলক বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। পার্কের ঝোপের ভেতর লুকিয়ে রাখা এসব বিস্ফোরক যেকোনো সময় বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা বা নাশকতা ঘটাতে ব্যবহৃত হতে পারত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

বিশেষ অভিযানে উদ্ধার

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে র‍্যাব-২ সিপিএসসি ও র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনায় এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। পুরো অভিযানটি পরিচালিত হয় মোহাম্মদপুর থানার টাউনহল সংলগ্ন শহীদ পার্কের ঠিক বিপরীত পাশে অবস্থিত লালমাটিয়া ত্রিকোণ পার্ক এলাকায়।

কী কী উদ্ধার হলো

র‍্যাব-২-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক সামগ্রীগুলোর মধ্যে রয়েছে—

৭টি পেট্রোল বোমা

৪টি ককটেল

৭০০ গ্রাম গান পাউডার

৫০০ গ্রাম স্প্লিন্টার ও তারকাটা

৪টি টেপ

৭০০ মিলিলিটার পেট্রোল

ছবি সংগৃহীত

র‍্যাব জানায়, শুধু উদ্ধার হওয়া গান পাউডার, তারকাটা ও স্প্লিন্টার দিয়েই অন্তত ২০–২৫টি অতিরিক্ত ককটেল তৈরি করা সম্ভব হতো। যা বিস্ফোরণের মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতি করতে পারত।

নাশকতার উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল

র‍্যাবের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পার্কের এক কোণে এসব বিস্ফোরক সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়।

র‍্যাবের কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনাস্থলের অবস্থান, বিস্ফোরক মজুতের ধরন এবং উদ্ধারকৃত সামগ্রীর পরিমাণ দেখে স্পষ্ট যে এটি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পিত নাশকতা ছিল।

বোম ডিসপোজাল ইউনিট কাজ শুরু করেছে

উদ্ধার হওয়া পেট্রোল বোমা, ককটেল ও অন্যান্য আলামত ইতোমধ্যে র‍্যাব সদর দপ্তরের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের তত্ত্বাবধানে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এলাকায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

তদন্ত ও নজরদারি জোরদার

র‍্যাব জানিয়েছে, কারা এই বিস্ফোরকগুলো মজুত করেছিল এবং কোথা থেকে এগুলো আনা হয়েছে—তা উদঘাটনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং স্থানীয় সূত্রেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

র‍্যাব-২ বলেছে, যেকোনো ধরনের নাশকতা রোধে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। জনগণকে সন্দেহজনক কোনো কিছু দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।