
ঢাকা প্রতিনিধি | ডেক্স রিপোর্টার শামসুল ইসলাম
অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। তারা উভয়েই নিজ নিজ পদত্যাগপত্র প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় রাজধানীর যমুনায় আহূত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকেই পদত্যাগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পদত্যাগকারী উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে মাহফুজ আলম তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এর আগে বুধবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পদত্যাগের বিষয়ে মন্তব্য করে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “এটা আমার বলার এখতিয়ার নেই। বিষয়টি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হবে। সে জন্য কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।”
ওই সংবাদ সম্মেলনেই তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে তিনি কোন আসন বা কোন রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচন করবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
উল্লেখ্য, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এর আগে জানান যে তিনি ঢাকা থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। ইতোমধ্যে তিনি কুমিল্লা থেকে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ৮ আগস্ট ছাত্রসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুরুর দিকে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার এবং সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অপরদিকে মাহফুজ আলম শুরুতে উপদেষ্টার মর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক হলে শূন্য পদে মাহফুজ আলমকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দুই ছাত্র উপদেষ্টার আকস্মিক পদত্যাগ অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সন্ধ্যার সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসবে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন।