রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮ মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সিলেটে কিশোর ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসের রহমান দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা নিয়ে মালয়েশিয়ার আপত্তি শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশের অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ আটক ৪ বড়লেখা সীমান্তে ১ হাজার ৭৭০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন আটক মৌলভীবাজার চলন্ত টমটম থেকে লাফ, কলেজছাত্রীর ২ দাঁত ভাঙল

দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা নিয়ে মালয়েশিয়ার আপত্তি

প্রবাস ডেস্ক

প্রবাস ডেস্ক | ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগামী ছয় মাসে দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় নেওয়া হবে—বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এমন বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তব্যকে দেশটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত হবে না।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার দেশটির সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল।

তিনি জানান, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানান তাকে বলেছেন, বাংলাদেশি প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া দুই লাখ কর্মী নেওয়ার বক্তব্যকে মালয়েশিয়ার সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখা উচিত হবে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে গত রোববার নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নেওয়া শুরু হতে পারে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দুই লাখ কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে এসব কর্মী পাঠানোর কথা রয়েছে। এর বাইরে আরও ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিনা খরচে নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল।

তবে মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্রের সর্বশেষ বক্তব্যে দুই লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে।

২৫ এজেন্সি নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় এজেন্সি নির্বাচন নিয়েও এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ২১ আগস্ট মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএসে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়।

এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে গত ২৮ আগস্ট আরও ৩১২টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে মালয়েশিয়া। এসব প্রতিষ্ঠানকে সহযোগী এজেন্সি হিসেবে রাখা হয়েছে।

প্রকাশিত কাঠামো অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ২৫টি মূল এজেন্সির অধীনে ১০টি করে সহযোগী এজেন্ট থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের অধীনে আরও ৬২টি এজেন্সি একই ধরনের সহযোগী ভূমিকা পালন করবে।

তবে জনশক্তি ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এই ব্যবস্থাকেও ‘সিন্ডিকেট’ হিসেবে দেখছে। তাদের অভিযোগ, ৩১২টি সহযোগী এজেন্সি যদি নিজস্ব নামে কর্মী পাঠাতে না পারে এবং মূল ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে হয়, তাহলে আগের মতোই সিন্ডিকেট ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। এতে বিদেশে যেতে আগ্রহী কর্মীদের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আগেও সিন্ডিকেট নিয়ে বিতর্ক

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০০৯ সালে প্রথম দফায় বাংলাদেশিদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৬ সালের শেষ দিকে বাজারটি পুনরায় খুললে ১০টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

২০১৭ ও ২০১৮ সালে ওই এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৯ জন বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যান। জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে শুরুতে কর্মীপ্রতি ব্যয় ৩৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ওই পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দুই দেশের মধ্যে নতুন চুক্তি হয়। সেই প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়া নির্দিষ্ট কিছু রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দেয়। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ওই ব্যবস্থায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭৯০ জন বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় যান।

কর্মীপ্রতি ব্যয় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও জরিপ অনুযায়ী গড়ে প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি।

পুনরায় শ্রমবাজার খোলার আলোচনা

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় খোলার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করেন।

এরপর দুই মাসের মধ্যে এজেন্সি বাছাইয়ের মাধ্যমে শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এবারও এজেন্সি নির্বাচন ও কর্মী পাঠানোর পদ্ধতি নিয়ে ‘সিন্ডিকেট’-এর আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বাংলাদেশের জনশক্তি ব্যবসায়ীদের একটি অংশ।

মালয়েশিয়া সরকারের সর্বশেষ বক্তব্যের কারণে দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণাটি বাস্তবে কবে এবং কী প্রক্রিয়ায় কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। ফলে মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।