সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন

হত্যা মামলার রায় ঘোষণা ৭ জানুয়ারি!

Reporter Name

রায়হান হত্যা মামলার রায় ঘোষণা ৭ জানুয়ারি: চার বছরের বিচারিক প্রক্রিয়ার অবসান অপেক্ষায় সিলেটবাসী

প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর ২০২৫
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সিলেটের বহুল আলোচিত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যুবক রায়হান উদ্দিনকে নির্যাতন করে হত্যার মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষের দিকে। আগামী ৭ জানুয়ারি এই বহুল চর্চিত মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। রোববার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এই দিন ধার্য করেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ মুন্সী আব্দুল মজিদ।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) বদরুল ইসলাম জানান, আলোচিত এই মামলার বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে আজ যুক্তিতর্কের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার, আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষ।

কারাবন্দি আসামিদের যুক্তিতর্ক শেষ

রোববার আদালতে হাজির হয়ে বহিষ্কৃত এএসআই আশেক এলাহীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এর আগে ২৬ নভেম্বর মামলার পলাতক ও জামিনে থাকা পাঁচ আসামির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।

মামলাটির প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, যিনি গত ১০ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন, পরবর্তীতে চেম্বার জজ তার জামিন স্থগিত করেন এবং ১০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। তবে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ না করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দেশের বাইরে চলে যাওয়ার গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। এই ঘটনার পর মামলার অন্যান্য আসামিরাও কেউ কারও হাজিরা দিচ্ছেন না।

মর্মান্তিক ঘটনার পটভূমি

২০২০ সালের ১০ অক্টোবর গভীর রাতে রায়হান উদ্দিনকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে অমানবিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। পরদিন সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

পরিবারের দাবি ছিল—রায়হানের মৃত্যু ঘটেছে পুলিশের নির্যাতনের ফলেই। অভিযোগের পর পুলিশের নিজস্ব অনুসন্ধান কমিটি ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে। তাদের প্রতিবেদনে উঠে আসে যে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য রায়হানকে নির্যাতন করেছিলেন। ঘটনার পর আকবরসহ চারজনকে বরখাস্ত করা হয় এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।

গ্রেপ্তার, তদন্ত ও অভিযোগপত্র

মামলার তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে প্রমাণ মিললে তারা কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া আকবরকে পরে সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করা হয়।

২০২১ সালের ৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই। এতে প্রধান অভিযুক্ত করা হয় এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে। অপর আসামিদের মধ্যে আছেন—

এএসআই আশেক এলাহী,

কনস্টেবল হারুন অর রশিদ,

কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস,

বরখাস্ত এসআই হাসান উদ্দিন,

এবং এসআই আকবরের আত্মীয় ও সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল নোমান।

এসআই আকবরসহ চারজন জামিন পেলেও পরে কেউ আর আদালতে হাজির হননি। নোমানকে গ্রেপ্তার করাও সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘ বিচারিক যাত্রার শেষ প্রান্তে

২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার শুরু হয়। প্রায় ৬৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে আদালতে। টানা চার বছর ধরে সাক্ষ্য, জেরা, যুক্তিতর্কসহ সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এখন কেবল রায়ের অপেক্ষা।

সিলেটবাসী ও রায়হানের পরিবার মনে করছে—এই রায় হবে স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত এবং দৃষ্টান্তমূলক। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর আগামী ৭ জানুয়ারি আদালত এই আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন।

সত্য ও সঠিক সংবাদের সাথে থাকতে—সিলেটি চ্যানেল
ছবি সংগৃহীত