
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৫০ পিএম
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যুবককে চুরির সন্দেহে গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতনের ঘটনা স্থানীয় এলাকায় চরম আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসন ও স্থানীয় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যুবককে টেনে নিয়ে নির্যাতন
নির্যাতনের শিকার যুবকের নাম জালাল মিয়া (২৭)। তিনি দক্ষিণ বুড়দেও গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে। জালালের একটি চোখে দৃষ্টিশক্তি নেই। পরিবারের দাবি—তিনি কখনোই কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন, কিন্তু তবুও তাকে বাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল ভোরে কয়েকজন ব্যক্তি জালালকে চুরির অপবাদ দিয়ে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে নদীর পাড়ে একটি নৌকায় নিয়ে যায়। সেখানে প্রথম দফায় তাকে হাত পিছমোড়া করে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে তাকে আবার ইউনুছ আলীর বাড়ির সামনে নিয়ে গিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন মোবাইলে সেই দৃশ্য ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
মায়ের আর্তনাদে উদ্ধার
পরে খবর পেয়ে জালালের মা শিরিয়া বেগম (৫০) ঘটনাস্থলে যান। তিনি চিৎকার করে স্থানীয়দের সহায়তায় ছেলেকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা বলেন,
“জালাল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় কাজকর্ম করতে পারে না। বিনা কারণে তাকে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।”
মামলা: ১২ জন নামীয়, অজ্ঞাত ৫০–৬০ জন
ঘটনার পরদিন সন্ধ্যায় শিরিয়া বেগম বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় আরফান মিয়া, ইউনুছ আলীসহ একই পরিবারের ৬ সদস্যসহ মোট ১২ জনকে সরাসরি আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অজ্ঞাত ৫০–৬০ জনকেও আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে—পরিকল্পিতভাবে, দলবেঁধে এবং জনসমক্ষে জালালের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ও পুলিশের অবস্থান
ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে আরফান মিয়া (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তিনি মামলার প্রধান আসামিদের একজন এবং একই গ্রামের বাসিন্দা।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ বলেন,
“আমরা ঘটনার পরপরই পদক্ষেপ নিয়েছি। মামলার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আজ শুক্রবার গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হবে।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
এলাকাবাসীর অনেকে বলেছেন,
“মানুষকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে এভাবে প্রকাশ্যে নির্যাতন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যুবকের সঙ্গে এমন আচরণ নির্মমতার চরম উদাহরণ।”
এদিকে মানবাধিকারকর্মীরা ঘটনাটিকে “মধ্যযুগীয় নির্যাতন” আখ্যা দিয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ছবি সংগৃহীত