শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সিলেটে তরুণীকে হত্যা: প্রাক্তন স্বামী ও তার বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড তালামীযে ইসলামিয়া মৌলভীবাজার সদর উপজেলা শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন, জুড়ীতে পানিতে ডুবে মামাতো-ফুফাতো দুই ভাইয়ের মৃত্যু কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ শ্রীমঙ্গলে ২১ বোতল ভারতীয় মদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের চাপায় চালকের মৃত্যু সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ,

শিকলবন্দী দুই মেয়ে, অসহায় মায়ের আর্তি

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর (চাক্কাটিলা) গ্রামের বাসিন্দা জামিনা খাতুনের জীবন এখন সংগ্রাম, দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বের প্রতিচ্ছবি।

প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর মানুষের বাড়িতে কাজ এবং ভিক্ষা করে তিন মেয়েকে বড় করেছেন তিনি। কিন্তু আজ তাঁর সবচেয়ে বড় লড়াই—মানসিক রোগে আক্রান্ত দুই মেয়েকে নিয়ে।

জামিনা খাতুন জানান, তাঁর স্বামী দিনমজুর মরতুজ আলী মারা যাওয়ার পর তিনি একাই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। বড় মেয়ে আফিয়া খাতুন বিয়ের এক বছর পর মৃত সন্তান প্রসবের পর মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁর স্বামী তালাক দিয়ে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। একইভাবে দ্বিতীয় মেয়ে রোবেনা বেগমও মৃত সন্তান প্রসবের পর মানসিক রোগে আক্রান্ত হন এবং পরবর্তীতে স্বামীর কাছ থেকে তালাকপ্রাপ্ত হন।

বর্তমানে দুই মেয়ের আচরণ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ায় তাদের নিরাপত্তা এবং আশপাশের মানুষের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে অনেক সময় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে বাধ্য হন বৃদ্ধা মা। তিনি জানান, একসময় চিকিৎসার চেষ্টা করলেও অর্থের অভাবে তা চালিয়ে যেতে পারেননি। এখন উন্নত চিকিৎসার ব্যয় বহন করার সামর্থ্য তাঁর নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বসতঘরের পাশে একটি ছোট কক্ষে দুই বোনকে রাখা হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী মা তাদের দেখাশোনা করলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও পরিচর্যার অভাবে মানবেতর জীবন কাটছে পুরো পরিবারটির।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র অনুযায়ী, আফিয়া খাতুন মাঝারি ধরনের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এবং রোবেনা বেগম মাঝারি ধরনের দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধী।

পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, পরিবারটি সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। দুই মেয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা এবং জামিনা খাতুন বিধবা ভাতা পাচ্ছেন। কেউ চিকিৎসার উদ্যোগ নিলে ইউনিয়ন পরিষদ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সমরজিৎ সিংহ বলেন, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করলে এ ধরনের রোগীরা অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তিনি পরিবারটিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ ইউনিটে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে এই অসহায় পরিবারটির চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পথ সহজ হতে পারে। তাদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা ও মানবিক সহযোগিতা পেলে পরিবারটি নতুন করে স্বাভাবিক জীবনের আশা দেখতে পারে।