বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮ মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সিলেটে কিশোর ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসের রহমান

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এক নারী তার স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ড্রামে রাখেন এবং পরে দেহাংশ ফ্রিজে সংরক্ষণের চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়েন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার এবং তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

পারিবারিক কলহ থেকে হত্যাকাণ্ড

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে বিরোধ চলছিল। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়ার একপর্যায়ে আসমা আক্তার লোহার রড দিয়ে স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মরদেহ টুকরো করে গোপন করার অভিযোগ

ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে মরদেহ টুকরো টুকরো করে আলাদা করেন অভিযুক্ত নারী। পরে দেহাংশ একটি ড্রামে ভরে বাসায় রাখেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরবর্তীতে কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর বাকি দেহাংশ নিয়ে পালং এলাকার আগের ভাড়া বাসায় গিয়ে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।

দুর্গন্ধে স্থানীয়দের সন্দেহ, ৯৯৯-এ কল

স্থানীয়রা জানান, ফ্রিজের আশপাশ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা এর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত আসমা আক্তারকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মরদেহের অংশ উদ্ধার

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

অভিযুক্তের দাবি

অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেছেন, তার স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিন ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করলে স্বামী মারা যান।

তিনি বলেন,আমি বুঝতে পারিনি এত বড় ঘটনা হয়ে যাবে।

পুলিশের বক্তব্য

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম জানান, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া এবং পরে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।