বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮ মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সিলেটে কিশোর ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসের রহমান দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা নিয়ে মালয়েশিয়ার আপত্তি

১৭ মাসে ৯৭ মাজারে হামলা: জড়িত কোন কোন দল,

Reporter Name
ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত

 

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক প্রকাশিত : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |

মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’–এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ১৭ মাসে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।

এসব হামলার মধ্যে ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সম্পৃক্ততার কারণে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় ইসলামী আন্দোলন, বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের নাম উঠে এসেছে এ প্রতিবেদনে।

আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান,

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’–এর এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। মাকামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ইমরান হুসাইন তুষারের সঞ্চালনায় সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য পাঠ করে শোনান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের হামলার ঘটনাগুলো প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ৫৯টি হামলা ধর্মীয় মতবিরোধ, ২১টি স্থানীয় বিরোধ, ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ১টি পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে সংঘটিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩টি ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা জড়িত ছিলেন।

এছাড়া ৪টি ঘটনায় বিএনপি, ৪টিতে জামায়াতে ইসলামী, ২টিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ১টিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ১টিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা–কর্মীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

মাকামের তথ্যমতে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর মোট ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও যাচাই–বাছাই শেষে ৯৭টির সত্যতা মিলেছে। বাকি ৩৭টির প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যার মধ্যে ৬টি গুজব হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

৯৭টি হামলার মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪টি ঘটনা ঘটেছে। জেলার হিসাবে কুমিল্লায় সর্বোচ্চ ১৭টি, নরসিংদীতে ১০টি ও ঢাকায় ৯টি হামলার ঘটনা ঘটে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকায় ৩৬টি, চট্টগ্রামে ২৮টি, সিলেটে ৯টি, ময়মনসিংহে ৮টি, রাজশাহীতে ৬টি, খুলনায় ৫টি, রংপুরে ৩টি ও বরিশালে ২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ হামলার ক্ষেত্রে ‘তৌহিদী জনতা’ বেশভূষা ও নেতৃত্বে ছিল। ভিডিও বিশ্লেষণে অন্তত ২৩টি ঘটনায় “নারায়ে তাকবির” স্লোগান ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। হামলার সময় মাজার–সংশ্লিষ্ট ৭টি মসজিদেও আক্রমণ করা হয়।

এসব ঘটনায় সারা দেশে ৩ জন নিহত এবং ৪৬৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মাকাম। নিহতদের মধ্যে ২ জন ঢাকার ও ১ জন ময়মনসিংহের।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে। বলা হয়, অন্তত ১০টি ঘটনায় হামলার আগে মাইকিং করা হলেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসব ঘটনায় মোট ১১টি মামলা হয়েছে।

হামলার শিকার ৪৪টি মাজার বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব মাজারে বার্ষিক ওরস বন্ধ রয়েছে এবং ৬টি মাজার বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

মাকামের সমন্বয়ক আবু সাঈদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মাজার, দরগাহ ও খানকাগুলোর ক্ষতিপূরণ, পুনঃসংস্কার এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের দাবিতে ১২টি রাজনৈতিক দলের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সব দলই চিঠি গ্রহণ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্লাস্টের প্রতিনিধি আহমেদ ইব্রাহীম, মাকাম গবেষণা দলের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম, আবু হাসান মুহাম্মদ মুখতারসহ বিভিন্ন মাজারের প্রতিনিধিরা।