বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮ মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সিলেটে কিশোর ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসের রহমান দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা নিয়ে মালয়েশিয়ার আপত্তি

স্ত্রী-সন্তান হারানোর পর হাইকোর্টে জামিন পেলেন সেই সাদ্দাম,

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত

 

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

স্ত্রী ও শিশু সন্তান হারানোর মর্মান্তিক ঘটনার পর বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মানবিক বিবেচনায় এই জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন আদালত।

সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করা সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা জানান, এর আগে তার বিরুদ্ধে থাকা ছয়টি মামলায় জামিন পেয়েছিলেন সাদ্দাম। তবে একটি মামলা শুনানির অপেক্ষায় থাকায় তিনি কারাগারে ছিলেন। সোমবার সেই মামলাতেও জামিন মঞ্জুর হওয়ায় আদালত ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জ থেকে জুয়েল হাসান সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বন্দি ছিলেন।

এরই মধ্যে গত ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের মরদেহ। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মানসিক হতাশা ও বিষণ্নতা থেকে স্বর্ণালী প্রথমে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। তবে এ ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মানবিক দিক বিবেচনায় পরদিন ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে তাকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারের সামনে পৌঁছায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সসহ পরিবারের ছয়জন নিকট আত্মীয়কে জেলগেটের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। পাঁচ মিনিট পর তাদের পুনরায় বাইরে বের করে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় দুটি মাইক্রোবাসে করে ১২ থেকে ১৫ জন স্বজন কারাগারের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা স্বজনদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আদালতের জামিন আদেশকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেওয়া এই জামিনের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে—সেদিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।