
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের রামুতে এক বিস্ময়কর ও আতঙ্কজনক ঘটনার সন্ধান মিলেছে। প্রায় এক দশক ধরে পাথর ভেবে যে বস্তুটির ওপর স্থানীয়রা কাপড় ধুয়ে আসছিলেন, সেটি আসলে একটি বোমা—এমনটাই প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে রামু থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা সদৃশ বস্তুটি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে এবং সেটি সংরক্ষণে নেয়।

ছবি সংগৃহীত
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বস্তুটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত অথবা অকার্যকর একটি বোমা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এটি এখনও চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত নয়।
ওসি বলেন,
বোমা সদৃশ বস্তুটির সংরক্ষণ স্থান সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বোমাটির কার্যকারিতা রয়েছে কি না এবং এর ভেতরে কোনো বিস্ফোরক উপাদান আছে কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ বছর আগে ওই এলাকার একটি পুকুর খননের সময় বস্তুটি পাওয়া যায়। পরে পুকুরপাড়ে রেখে দিলে সেটিকে সাধারণ পাথর মনে করে স্থানীয় নারীরা নিয়মিত কাপড় ধোয়ার কাজে ব্যবহার করতে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটায় কেউ বিষয়টি নিয়ে সন্দেহও করেননি।
এদিকে রামুর ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া জানিয়েছেন, বস্তুটির আকৃতি ও গঠন দেখে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত বোমা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তিনি বলেন,
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই অঞ্চলে জাপানি বাহিনীর অবস্থান ছিল। সে সময় এখানে এমন বোমা ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে। যদি পরীক্ষায় দেখা যায় এর ভেতরে বিস্ফোরক আছে, তাহলে জননিরাপত্তার স্বার্থে অবশ্যই সেটিকে নিষ্ক্রিয় করতে হবে। আর যদি বিস্ফোরক না থাকে, তবে এটি সংরক্ষণ করা যেতে পারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে।”
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম কৌতূহল ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। একদিকে দশ বছর ধরে সম্ভাব্য বোমার ওপর কাপড় ধোয়ার বিষয়টি নিয়ে বিস্মিত স্থানীয়রা, অন্যদিকে এটি বিস্ফোরক হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত—এ ভাবনায় আতঙ্কিত সবাই।
পুলিশ জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।