বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮ মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সিলেটে কিশোর ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসের রহমান দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা নিয়ে মালয়েশিয়ার আপত্তি

শেষ বিছানায়ও পাশাপাশি চিরঘুমে মা-ছেলে

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত

 

সিলেটি চ্যানেল ডেস্কপ্র কাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

বাগেরহাটে মানসিক হতাশা থেকে নিজের ৯ মাস বয়সী শিশুকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন এক তরুণী মা। মর্মান্তিক এই ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত নারী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) এবং তার শিশুসন্তান নাজিমকে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়েছে।

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই ঘর থেকে মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তানের মরদেহ। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, মানসিক অবসাদ থেকেই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন ওই নারী।

নিহতের বাবা শেখ রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে স্বর্ণালী তার শিশুসন্তানকে নিয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে বের হন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। রাত ১১টা ২০ মিনিটে জানাজা শেষে রাত ১২টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

নিহত নারীর স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দাম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে একাধিক মামলায় তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। তবে মানবিক বিবেচনায় কারা কর্তৃপক্ষ তাকে মাত্র পাঁচ মিনিট দূর থেকে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ দেয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স যশোর কারাগারের ফটকে পৌঁছালে সীমিত সময়ের জন্য এই সুযোগ দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা এবং পারিবারিক সংকট এমন মর্মান্তিক পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।