
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক র্যাব কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ সময় তিন র্যাব সদস্য ও এক সোর্সকে দুর্গম পাহাড়ে জিম্মি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিম্মিদের উদ্ধার করে। এই ঘটনায় আরও চার র্যাব সদস্য আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল আবাসিক এলাকায় এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। রাতেই সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে অভিযান শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, র্যাব-৭ এর একটি দল অবৈধ বসতি ও অপরাধ কর্মকাণ্ড দমনে অভিযান চালাতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রবেশ করে। অভিযানের শুরুতেই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের অনেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল, পাশাপাশি ইট-পাটকেল ও লাঠিসোঁটা দিয়েও আক্রমণ করা হয়,
এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। এতে র্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আবদুল মোতালেব গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছবি সংগৃহীত
এই ঘটনায় আহত আরও চার র্যাব সদস্যকে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সময় তিন র্যাব সদস্য ও এক সোর্সকে সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম পিপিএম (সেবা) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
র্যাব সদস্যরা অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে একজন র্যাব কর্মকর্তা নিহত হন। আহত সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জিম্মিদের উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহত র্যাব কর্মকর্তার নাম উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আবদুল মোতালেব।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন,
খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ও যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে।”
🔴 ‘নিষিদ্ধ নগরী’ জঙ্গল সলিমপুর
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় গত চার দশক ধরে পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য রক্ষায় এখানে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সশস্ত্র অপরাধ চক্র। এলাকাটিকে স্থানীয়ভাবে ‘নিষিদ্ধ নগরী’ হিসেবে পরিচিত করা হয়, যেখানে প্রবেশের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র প্রয়োজন হয়।
সূত্র জানায়, বহিরাগত তো বটেই— অনেক সময় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রবেশও নিয়ন্ত্রিত থাকে। এলাকাটিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করছে দুটি প্রভাবশালী সংগঠন
একটি ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’, যার নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া।
অন্যটি ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’, যার নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক। দুই সংগঠনের মোট সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার বলে জানা গেছে।
এর আগেও একাধিকবার জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা আহত হন। সন্ত্রাসীরা ককটেল, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়।
২০২২ সালেও র্যাব ও পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হলেও বাহিনী চলে যাওয়ার পর পুনরায় শুরু হয় অবৈধ কার্যক্রম।